বাড়তি বিলের সঙ্গে ভর্তুকির বোঝা ৩৬শ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২০

বাড়তি বিলের সঙ্গে ভর্তুকির বোঝা ৩৬শ কোটি টাকা
Spread the love

১৪ Views

লুৎফর রহমান কাকনঃঃ

দাম বাড়ানোর পর খুচরা গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে বছরে বাড়তি আসবে দুই হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট আসবে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। তবে এ বিপুল অর্থও গ্রাহকের বাড়তি বিলের বোঝাকে সহনীয় করতে পারবে না।

 

কেননা, এর পরও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেনাবেচায় সরকারের ভর্তুকি দিতে হবে বছরে ৩ হাজার ৬শ কোটি টাকা। অর্থাৎ জনগণের করের টাকা থেকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) এই বড় অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

 

ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণ, জ্বালানিতে আমদানিনির্ভরতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপচয়, অনিয়ম ও অযৌক্তিক ব্যয়বৃদ্ধির কারণে বারবার বিদ্যুতে দাম বাড়াতে হচ্ছে। এর মাশুল দিতে হচ্ছে জনগণকে।

 

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সরকার। যা চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হয়। এটিসহ গত ১০ বছরে নয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার।

 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি খুচরাপর্যায়ে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিক্রি করবে গ্রাহকদের কাছে। তবু পাইকারিপর্যায়ে (বাল্ক) বিদ্যুৎ ক্রয় ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রির মাঝখানে পিডিবিকে সরকারের কাছ থেকে ৩৬শ কোটি টাকা ভর্তুকি নিতে হবে।

 

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এটি দাম বৃদ্ধি নয়। মূল্য সমন্বয়। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ আর বিক্রির মধ্যে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। সরকার এতদিন এ খাতে যে ভর্তুকি দিয়ে আসছে, সেটা সমান করা হবে। আস্তে আস্তে ভর্তুকি তুলে দেওয়া হবে।

 

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের প্রায় পুরো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। আমদানি করা তেল, কয়লা ও লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চলছে।

 

ফলে এখনো যে দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে সরকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়। ফলে ভবিষ্যতে আরও অনেকবারই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হতে পারে।

 

তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো কোনো স্থায়ী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়নি। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

 

দাম বৃদ্ধির ঘোষণাকালে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নে বিইআরসির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, আবারও দাম বাড়বে কিনা সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিলে তা অবশ্যই কমিশন যাচাই-বাছাই করবে।

 

বিইআরসির মূল্যবৃদ্ধি-সংক্রান্ত কাগজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাইকারি (বাল্ক) বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে প্রতি ইউনিটে ৪০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এর পরও পাইকারি খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয়ে পিডিবির ঘাটতি থাকবে ৪৭ পয়সা।

 

বিইআরসির পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির আদেশে বলা হয়েছে, চলতি বছর পিডিবি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে ২ হাজার ৩৬২ কোটি ২০ লাখ ইউনিট। আর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিনবে ৪ হাজার ৭৩৭ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট। ভারত থেকে আমদানি করা হবে ৭৮৬ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ।

 

সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় করে গ্রাহকপর্যায়ে বিক্রি হবে প্রায় ৭ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট। খুচরাপর্যায়ে এ বিক্রির ফলে আসবে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। এর পরও ভর্তুকি দিতে হবে ৩৬শ কোটি টাকা।

 

এতবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরও কেন বলা হচ্ছে পিডিবিকে আরও ভর্তুকি দিতে হবে- বিষয়টি জানতে চাইলে ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, আমরা সব সময়ই দেখিয়ে আসছি, মূলত অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণের কারণে দাম বাড়ছে।

 

এ দাম বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপচয়-অনিয়মের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ৯ হাজার কোটি টাকার ওপরে অযৌক্তিক খরচ রয়েছে। দরকার না থাকলেও কিছু তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বেড়েছে।

সূত্র: আমাদের সময়


Spread the love

Follow us

আর্কাইভ

May 2022
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031