সিলেট ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী জুনের মধ্যেই সরকার নতুন একটি নীতিমালা ঘোষণা করতে পারে।
তিনি বলেন, এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মতো সৌর বিদ্যুৎ খাতেও বিপ্লব ঘটতে পারে।
বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ–এর যৌথ উদ্যোগে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নবিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সৌর বিদ্যুৎ এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশও দ্রুত এ খাতে এগিয়ে যেতে চায়। সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে, যাতে তারা বিনিয়োগের যথাযথ রিটার্ন পেতে পারেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শতাধিক উদ্যোক্তা ছাড়াও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এবং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা)–সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় ‘১৩০-১৪০ মেগাওয়াট (এসি) গ্রিড-টাইড সোলার পাওয়ার প্লাস ব্যাটারি স্টোরেজ’–বিষয়ক সোনাগাজী সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ফেনীর সোনাগাজী এলাকায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতাধীন বেজার মালিকানাধীন ৪১২ একর জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের অফ-টেকার হবে বিপিডিবি।
সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সোনাগাজী প্রকল্পটি শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি ‘রেপ্লিকেবল মডেল’। তিনি জানান, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটির ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে সৌর বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানি ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ ২০২৫ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ৭ এপ্রিল ২০২৬ সরকারি সংস্থার জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করে সরকার। এর আওতায় সোনাগাজী প্রকল্পকে ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক মডেলিং এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়।