দোয়ারাবাজারে কবিরাজ অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা, তদন্তে ডিবি পুলিশ

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে কবিরাজ অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা, তদন্তে ডিবি পুলিশ

প্রতিনিধি / সুনামগঞ্জ ::

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গয়েছ মিয়া (৩৫) নামের এক স্থানীয় কবিরাজকে নিজ চিকিৎসালয় (কুঁড়েঘর) থেকে নৃশংসভাবে অপহরণ ও গুম করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিখোঁজ গয়েছ মিয়ার বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৩৬৪/৩৪ ধারায় এই সি.আর মামলাটি (মামলা নং- ২৬৪/২৬ইং) দায়ের করেন। ​মামলার এজাহার ও বিবরণ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের উত্তর দিকে জঙ্গলঘেঁষা একটি বটবৃক্ষের নিচে কুঁড়েঘর বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন গয়েছ মিয়া। চিকিৎসায় সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় একটি প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী তাঁর ওপর ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

 

 

​প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকির মুখে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নিখোঁজ গয়েছ মিয়া অপহরণের দু’দিন আগে, গত ২২ জুন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন। ​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় প্রতিপক্ষরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জেরে গত ২৪ জুন (বুধবার) ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে আসামিরা রামদা, ডেগার, লোহার রডসহ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গয়েছ মিয়ার কুঁড়েঘরে হামলা চালায়। পরদিন সকালে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা কবিরাজের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনদের খবর দেন। বার্তা পেয়ে গয়েছ মিয়ার মা-বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কুঁড়েঘরের ভেতরের তোষকে তাজা রক্তের ছাপ দেখতে পান।

 

মামলার উল্লিখিত প্রধান আসামিরা হলেন— বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন (৫৫), রুহুল আমিন রুপাই (৫২), কাদির মিয়া (২৮), জিয়াউল হক (৪০), আলামিন সিরাজী (৩০), কর্ণেল (২৫), হাবিবুর রহমান (২৩), আশিক মিয়া (৩২), আনফর আলী (৪৫), পাপলু মিয়া (২২) এবং রাজীব মিয়া (২৫)।

 

ভিকটিমের পিতা আব্দুর রহিম ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আসামিরা আমার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম করে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম বা অন্যত্র পাচার করে দেওয়ার আশঙ্কা করছি।” আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজিসহ সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টার কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী। অসহায় পরিবারটির পক্ষ থেকে ভিকটিম গয়েছ মিয়াকে জীবিত বা মৃত দ্রুত উদ্ধার, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930