সিলেটে ভাগ্য বদলে গেলে ফিরোজ ও আছিয়ার

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫

সিলেটে ভাগ্য বদলে গেলে ফিরোজ ও আছিয়ার

লন্ডন বাংল ডেস্ক ::

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গুজাতলী গ্রামের বৃদ্ধ ফিরোজ আলী (৬০)। ৪ সন্তানের জনক ফিরোজ আলী আগে ছিলেন সবজি বিক্রেতা।

১৪ বছর আগে মৌলভীবাজার থেকে সবজি নিয়ে আসার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলেন একটি পা। চিকিৎসা ব্যায়ে অর্থ হারিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। এর কিছুদিন পর বড় ছেলে বিয়ে করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন অন্যত্র।

 

ছোট ছেলেরাও কাজ পান না প্রতিদিন। বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে স্ত্রীর আহার যোগাতে নেমে পড়ের ভিক্ষায়। ভিক্ষা করে প্রতিদিন আয়  হতো ২থেকে ৩শ টাকা। এইদিয়েই চলত সংসার।

 

ফিরোজ আলীর মতো আছিয়া বেগম (৫৬)। গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারাই গ্রামে বসবাস করছেন পৈত্রিক সূত্রে। পার্শবর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের সাথে বিয়ে হলেও স্বামীর বাড়িতে থাকা হয়নি বেশি দিন। ৩সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আসলেও ঠাঁই হয়নি আছিয়ার। জীবন যুদ্ধে আছিয়া কলারাই বাজারে একটি কলনীতে বসবাস করেন মাসিক ২হাজার টাকা ভাড়াতে।

 

৮বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় তার ছেলে গুরুত্ব আহত হন। সেই ছেলেরও ৪সন্তান। এক মেয়েকে বিয়ে দিলে বাকি তিন সন্তান ও আছিয়ার আরো দুই সন্তানসহ পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ৮জন। এই সংসার চালাতে মাঝে মাঝে ভিক্ষা করতে হয় বৃদ্ধা আছিয়াকে। তবে, এই পেশায় থাকতে চান না তিনি। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিস্কারের কাজ করেন মাঝে মাঝে।
 

আছিয়া ও ফিরোজ আলীর কষ্টগাঁথা জীবনের ইতি টানতে এগিয়ে আসেন উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়। ভিক্ষুক পূর্ণবাস ও বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতার ফিরোজ আলীকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও আছিয়া বেগমকে একটি ভ্রাম্যমান মোদি দোকান উপহার দেন। এই কর্মসংস্থানই ছিল যেন তাদের পূর্ব স্বপ্ন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অটোরিকশা ও ভ্রাম্যমান দোকান হস্থান্তর করা হয়। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগে আপ্লপ্ত হয়ে পড়েন ফিরোজ-আছিয়া।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930