বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় এলাকায় প্রস্তাবিত ব্রিজ নির্মাণ হলে ভিটাবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীর

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় এলাকায় প্রস্তাবিত ব্রিজ নির্মাণ হলে ভিটাবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীর

প্রতিনিধি / বালাগঞ্জ ::

 

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রস্তাবিত ব্রিজ নির্মাণ হলে ভিটাবাড়ি, ফসলি জমি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন ও অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন।

 

সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের দাবি তুলে ধরেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় গ্রাম এলাকায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত ও হেলে পড়া ছোট কালভার্ট রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির ওপর সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়।

 

২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর পাশের বসতবাড়ির মাটি পড়ে কালভার্টটির বড় একটি অংশ ঢেকেও গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কালভার্টের উভয় পাশে সরকারি কোনো খাল বা নালা নেই। বর্তমানে ওই এলাকায় শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি রয়েছে। কালভার্টের উত্তর পাশে দিগর বেড়কুড়ি মৌজার জেএল নং-১৩৬-এর ২৫৯, ২৬২ ও ২৬৩ নম্বর দাগে সুলেমান মিয়া, সাইদুল ইসলাম মসাইদসহ কয়েকজনের বাড়ি ও আমন চাষের জমি রয়েছে। দক্ষিণ পাশে ১৭০, ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর দাগে আব্দুল বারী, মাহতাব উদ্দিন, আব্দুল আলীসহ কয়েকজনের মালিকানা ভূমি রয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের স্থানে প্রায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভিটাবাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রস্তাবিত স্থানে ব্রিজ নির্মাণ না করে ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

২১ সেপ্টেম্বর বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করচারপাড় গ্রামের সাইদুল ইসলাম মসাইদ লিখিত বক্তব্যে , তাদের মালিকানা ভূমিতে ব্রিজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্টদের সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। প্রয়োজনে অপপ্রচারকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও কথা জানান তিনি।

 

সাইদুল ইসলাম মসাইদ বলেন, বিষয়টি সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিককে অবহিত করা হয়েছে। এলাকাবাসী তাদের মূল্যবান ভূমি রক্ষায় সরকারের কাছে ন্যায্য দাবি জানাচ্ছেন। তার অভিযোগ, তাদের ক্ষতির মুখে ফেলে ব্রিজ নির্মাণে আগ্রহী একটি মহল বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ব্রিজের কাছাকাছি রাধাকোনা ও করচারপাড় গ্রামের মধ্যবর্তী করচার খালের ওপর আগের একটি বন্যাকবলিত ব্রিজ রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া ব্রিজটি ওই স্থানে পুনঃস্থাপন করা হলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন বলে তারা মনে করছেন।

 

এ কারণে নতুন ব্রিজটি করচার খালের ওপর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, করচার খালের সঙ্গে পিংলাকোনা খাল নামে একটি সরকারি খালের সংযোগ রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের বন্যায় পিংলাকোনা খাল পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ওই খাল দিয়ে পিংলাকোনা হাওড়ের পানি করচার খালে প্রবাহিত হয়। স্থানীয়রা পিংলাকোনা ও করচার খাল দ্রুত খননেরও দাবি জানিয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাইদুল ইসলাম মসাইদ আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করচারপাড় গ্রামের কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কবরস্থানে মাটি ভরাট করে সেটি ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা আশপাশের জমির তুলনায় কমপক্ষে ৫ ফুট উঁচু রয়েছে। এ ধরনের প্রচারণার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বারী, সুলেমান মিয়া, মাহতাব উদ্দিন, আব্দুল আলী, ফাতেহা বেগম, পারভীন বেগম, জিলু বেগম, রেজিয়া বেগম, মেহতাব বেগম, রানী বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী সেখানে ব্রিজ নির্মাণে আপত্তি তুলেছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন প্রস্তাবিত স্থানের ভূমি, পানি প্রবাহ, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় ও জনস্বার্থ সম্মত স্থানে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান তারা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930