দোয়ারাবাজারে মাদ্রাসা নিয়োগে ‘স্বজনপ্রীতির বলয়’গোপন বিজ্ঞপ্তি, আত্মীয়দের আবেদন ও পছন্দের কমিটি—নেপথ্যে কী চলছে?

প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে মাদ্রাসা নিয়োগে ‘স্বজনপ্রীতির বলয়’গোপন বিজ্ঞপ্তি, আত্মীয়দের আবেদন ও পছন্দের কমিটি—নেপথ্যে কী চলছে?

প্রতিনিধি / সুনামগঞ্জ ::

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ০১নং বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরইউড়ি দারুসসুন্নাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন বাছাই ও কমিটি গঠন—সবকিছুতেই প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

 

আগের অনিয়মে অধ্যক্ষ বরখাস্ত, নতুন দায়িত্বেই বিতর্ক

স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে মাদ্রাসাটিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনের পর তৎকালীন অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর সহকারী অধ্যক্ষ আঃ আজিজকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি।

 

 

 

নিয়ম ভেঙে সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী মনোনয়ন

অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আঃ আজিজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আজহারুল ইসলামকে মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন। একইসঙ্গে মোঃ রফিকুল ইসলামকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয়, যা স্থানীয়দের মতে স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট উদাহরণ।

 

 

 

গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, জানতেন না শিক্ষকরা

কমিটি গঠনের পরপরই গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক ও কমিটির একাধিক সদস্যও অবগত ছিলেন না। কেন এ ধরনের গোপনীয়তার আশ্রয় নেওয়া হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

 

 

আত্মীয়দের ভিড়ে নিয়োগ বোর্ড

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত বিজ্ঞপ্তির আওতায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ছেলে, সভাপতির স্ত্রী ও ছেলে, শালিকা এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয়রা আবেদন করেন। পাশাপাশি বিদ্যোৎসাহী সদস্য নিজে, তাঁর স্ত্রী ও ভাইয়ের মাধ্যমেও আবেদন করা হয়।

 

 

বাছাই প্রক্রিয়ায় ‘নিজেদের লোক’

অভিযোগ অনুযায়ী, সভাপতি, অধ্যক্ষ ও বিদ্যোৎসাহী সদস্যরা নিজেদের পছন্দের প্যানেলভুক্ত আবেদনগুলো যাচাই করে অন্যান্য আবেদন অযৌক্তিকভাবে বাতিল করে দেন। এতে যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করেও প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

 

 

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আঃ আজিজ বলেন,

“পর্যাপ্ত পরিমাণ আবেদন না থাকায় আমরা আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। অভিযোগে যেটুকু লেখা হয়েছে, বাস্তবে ততটুকু নয়। আমরা দুর্নীতির ঊর্ধ্বে। এছাড়া আঃ রহমানের পক্ষ থেকে একজন ইতোমধ্যে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।”

 

 

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

 

 

“অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। অভিযোগকারীদের বলব—তারা যেন এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন।”

 

 

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

একদিকে গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ—এতে প্রশাসনিকভাবে তদন্ত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, আদালতের পাশাপাশি প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া এই অনিয়মের সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব নয়।

 

 

শেষ প্রশ্ন

যে মাদ্রাসায় আগেও অনিয়মের অভিযোগে অধ্যক্ষ বরখাস্ত হয়েছিলেন, সেখানে আবার কীভাবে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারা সুবিধা নিচ্ছে—এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আঃ আজিজ বলেন পর্যাপ্ত পরিমাণ আবেদন না থাকায় আমরা আবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং তারা অভিযোগে যতটুকু লেখেছে বাস্তবে ততটুকু না। আমরা দুর্নীতির ঊর্ধ্বে এবং আঃ রহমানের একজন অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।

 

 

জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম বলেন অভিযোগ পাওয়ার পরে  আমি যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি কিন্তু তারা পাত্তা দেয়নি। অভিযোগকারীদের কে আমি বলব তারা যেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করে দেয়।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930