‘আমার ছেলে নাই, দুনিয়া ছাড়িয়া চলে গেছে!’

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৬

‘আমার ছেলে নাই, দুনিয়া ছাড়িয়া চলে গেছে!’

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

সিলেটের ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৯ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্র আরমান হোসেন রাহিমের লাশ নিতে এসে বাবার বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। ফোনে স্বজনদের উদ্দেশে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমার ছেলে নাই! দুনিয়া ছাড়িয়া চলিয়া গেছে, আল্লাহ নিয়া গেছেন।’ সন্তান হারানোর সেই অসহনীয় শোক উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোট ৯জন নিহত হন।

 

জানা গেছে, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতদের একজন ছিলেন আরমান হোসেন রাহিম (১৯)। তিনি সিলেটে শাহপরান জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করার পর ঢাকার ডেমরার নরাইবাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। শুক্রবার সকালে ওই মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার পথে রওয়ানা দেন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছানো হয়নি; পথেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই তরুণ।

দুপুরে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ছেলের লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাহিমের বাবা রফিকুল ইসলাম। রফিকুল পেশায় তিনি একজন রড মিস্ত্রি। ফাঁড়িতে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে এক স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

 

ফোনে তিনি বলেন, ‘কে বলছেন? আমার ছেলে নাই! দুনিয়া ছাড়িয়া চলিয়া গেছে, আল্লাহ নিয়া গেছেন। এটা কইয়ে দিয়েন (বলে দিয়েন)। মসজিদের ইমাম সাহেবকে বলিয়েন (বলবেন)। সকালে পেন্ট-শার্ট পইরা বাইর হইছিল, আর আমার ছেলে নাই। লাশ পাইছি। আমার ছেলেরে আর মুফতি বানানি হইলো না।’ তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারিতে উপস্থিত পুলিশ সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়দের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

এ সময় নিহতের বাবাকে সান্ত্বনা দেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় লাশ দাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত আরমান হোসেন রাহিমের পরিবারের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা।

 

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৯জনের প্রাণহানি ঘটে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930