সিলেট ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬
প্রতিনিধি / বালাগঞ্জ ::
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের চরআলাপুর বড় মোকাম থেকে সিলেট-সুলতানপুর সড়কের গহরপুর ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান সড়কটি তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পাকাকরণ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে কোনো কোনো অংশে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের সৃষ্টি হয় জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়। কাদাযুক্ত ও গর্তে ভরা সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক সময় রোগীকে নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যেতে হয়।
স্থানীয় প্রবাসী সমাজকর্মী সিতাব আলী বলেন, সড়কটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন,বৃষ্টির সময় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুছ আলী বলেন, এই সড়কের কারণে বর্ষাকালে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এতদিন কাঁচা থাকা দুঃখজনক।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির আহমদ ও সাদিক আলী বলেন, কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন ঠিকমতো চলতে পারে না। প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে রোগী নিয়ে যেতে হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি চাই।
তারা বলেন, সড়কটি পাকাকরণ হলে চরআলাপুর সুলতানপুর সহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।
এ বিষয়ে দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলম বলেন, উক্ত রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাস্তার একটি অংশে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করেছি। প্রায় এক কিলোমিটার এই রাস্তা পাকাকরণ করা হলে ৩-৪টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেবে। প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।