দোয়ারাবাজারে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ
প্রতিনিধি / সুনামগঞ্জ ::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতিসহ নানা প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোছাম্মৎ সুরজাহান আক্তার নামের এক স্থানীয় অভিভাবক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার সুযোগে সহকারী শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন বিদ্যালয়ের যাবতীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের সকল প্রকার সরকারি বিল প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিনের নিজ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে (হিসাব নং- ০২০০০০৮২৮৯৪২৪) স্থানান্তর করে এককভাবে ভোগ করছেন। এছাড়া নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের যৌথ ব্যাংক হিসাবেও বেআইনিভাবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে জোরপূর্বক কোচিং করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন সরকারি ট্রেনিং প্রোগ্রামে তিনি কখনো সহকারী শিক্ষক, আবার কখনো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে অংশ নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ফলাফলের ক্ষেত্রেও তিনি কিছুটা পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেন।
অভিযোগকারী সুরজাহান আক্তার বলেন, “শিক্ষক জসিম উদ্দিনের এসব আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও সরজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড দেখাশোনার কথা স্বীকার করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস বা কোচিং করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এর বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা নেন না বলে দাবি করেন এবং প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুরো বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, উক্ত লিখিত অভিযোগের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকেও প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকগণ অনতিবিলম্বে এই আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930