সিলেট ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে পানি। পানি নামার সাথে সাথে ভেসে ওঠছে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত চিহ্ন। এখন পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে মৌলভীবাজারে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেটে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে এখনো প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার কোথাও নদী ভাঙন বা বন্যার খবর পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমায় এরই মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রসহ পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পানি কমলেও কমেনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়িতে কাদা থাকায় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসিদের।
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। পরে একে একে লস্করপুর, লামাতাসি ও পইল ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। বন্যার পানি কমায় রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ভেসে উঠছে। একই সাথে ভেসে ওঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খেতের মাঠে ধানের চারা ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। মাছ ভেসে যাওয়ায় ঘেরের মালিকরা হতাশ।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, বন্যা কবলিত রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় কমতে শুরু করেছে পানি। বন্যায় আউস ও আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন রাজনগর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আশরাফ আলী নামের এক বৃদ্ধ।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের শিব্বির আহমেদ জানান, নদীর তীর ভেঙে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
এদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ভাঙ্গনে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ৩০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার ও ১১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী পরিচালক খালিদ বিন ওয়ালিদ জানান, নদীর পানি ধীরগতিতে কমছে। বৃষ্টি না হলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
এদিকে, টানা চার দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্চে। জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও, রানীগঞ্জ ও আশারকান্দি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী-রৌয়াইল গ্রামের পাকা সড়কটি বালিশ্রী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ভেঙে কুশিয়ারা নদীর পানিতে প্রায় ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় এলাকার লোকজন নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন।