সিলেট ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬
প্রতিনিধি / বালাগঞ্জ ::
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগী প্রয়াত প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরীর স্মরণে বালাগঞ্জের গহরপুর আব্দুল মতিন মহিলা একাডেমির উদ্যোগে পবিত্র কুরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, খতমে কুরআন ও প্রয়াত শিক্ষাবিদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্মরণসভা ও আলোচনা পর্বে বক্তারা প্রয়াত প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরীর শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান, কর্মময় জীবন, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষার্থী ছানজানা কবির নাবিলা ও হাফিজা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রয়াত প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরীর কন্যা ড. চৌধুরী ফারহানা ঝুমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের প্রথম শর্ত হলো নারী শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা। কারণ একজন শিক্ষিত নারী কেবল নিজের জীবনই আলোকিত করেন না, তিনি একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করেন। তাই নারী শিক্ষার বিকল্প নেই। মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা এমন একটি শক্তি, যা নারীর আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি ও আত্মমর্যাদাবোধকে বিকশিত করে।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরী বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাই একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি সারা জীবন শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কাজ করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পাবে। আমরা যদি তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারি এবং নারী শিক্ষার প্রসারে আন্তরিকভাবে কাজ করি, তাহলেই তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের যোগ্য, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষাই পারে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক রাহাত শামস। তিনি বলেন, প্রয়াত প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরী ছিলেন শিক্ষা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। শিক্ষানুরাগী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী তাসলিমা আক্তার বেলা বলেন, নারী শিক্ষার প্রসার মানেই একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করা। শিক্ষিত নারী পরিবার ও সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।
গহরপুর আব্দুল মতিন মহিলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাজ্য কমিউনিটি নেতা আব্দুল মতিন মাখন বলেন, এই অঞ্চলের মেয়েদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা, আর নারী শিক্ষা সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন নর্থইস্ট বালাগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসি এবং একাডেমির সহকারী শিক্ষক তুহিন ইসলাম। বক্তারা বলেন, প্রয়াত প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরীর আদর্শ ও কর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের স্মরণসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে একাডেমির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে প্রয়াত প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সকলে তাঁর কর্মময় জীবনের আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষা বিস্তারে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।