সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যায় চা শিল্পে স্থবিরতা

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যায় চা শিল্পে স্থবিরতা

প্রতিনিধি / সিলেট ::

 

সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে চা শিল্পে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। দেশের প্রধান চা উৎপাদনকারী এ অঞ্চলের বিভিন্ন বাগানের কারখানায় সময়মতো কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কাটিং, রোলিং, উইদারিং, সর্টিংসহ অধিকাংশ যন্ত্রপাতির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ড্রায়িং বা চা পাতা শুকানোর প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি জুলাই-আগস্ট চা উৎপাদনের পিক-সিজন। এ সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতিই নয়, চায়ের গুণগত মান ও বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শনিবার রাতে সিলেট বিসিকের একটি সূত্র জানায়, শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তবে পরে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজি খালাসে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ হলেও চাপ কম। আর বিসিক গোটাটিকর এলাকায় (শনিবার) লোডলেডিং হয়েছে ৭ থেকে ৮ বার।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে রয়েছে বিপুলসংখ্যক চা বাগান। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৯টি, মৌলভীবাজারে ৯১টি ও হবিগঞ্জে ২৫টি বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে আলাদা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা না থাকলেও বড় ও কেন্দ্রীয় কারখানায় আশপাশের একাধিক বাগানের কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পুরো সিলেট অঞ্চলে চা উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিত ও সক্রিয় কারখানার সংখ্যা আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০টি। এ অঞ্চলে এক লাখের বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী চা শ্রমিক কর্মরত। চা জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।

চা কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দিনে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে কারখানার মেশিনারি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কাটিং, রোলিং ও অন্যান্য মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ ফিরে এলেও সব মেশিন তাৎক্ষণিক ভাবে চালু করা সম্ভব হয় না।
সিলেটের চা শ্রমিকদের ভ্যালী সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রতিদিন গড়ে সাত-আটবার লোডশেডিং হচ্ছে। ফ্যাক্টরিতে একবার মেশিন বন্ধ হলে তা আবার চালু হতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এর মধ্যে গ্যাসের চাপও কম। ফলে ড্রায়িং প্রসেসে চা পাতা ঠিকমতো শুকাচ্ছে না। এতে চায়ের গুণগত মানও খারাপ হচ্ছে।
চা উৎপাদনের দিক থেকে জুলাই ও আগস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হলে পুরো বছরের উৎপাদনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ড সারা দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি বা ১০৪ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31