সিলেট ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ বা চিকিৎসাগতভাবে কারাগারে থাকার উপযোগী ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল নেওয়া হয়। কারাগারে বন্দি হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথমবারের মতো তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন চিকিৎসকসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। পরে তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।
তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নেওয়া হয়নি। আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, পিটিআই কর্মীদের কারণে নির্ধারিত পথে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ইমরানকে রাষ্ট্রীয় পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইমরানের বোন উজমা খান তার চিকিৎসা পরীক্ষার সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা শেষে ভোর ৫টার দিকে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামাবাদের রাস্তায় তার সমর্থকেরা জড়ো হন। রাতে তাকে বহন করছে বলে ধারণা করা গাড়িটির ওপর সমর্থকেরা ফুল ছুড়ে দেন। পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যমে ইমরানের নাম উল্লেখ করাও অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হতো। ফলে এবারের দৃশ্যকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইমরানকে হাসপাতাল থেকে দ্রুত কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তার সমর্থকদের মধ্যে নতুন ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও রাজপথের বিক্ষোভ আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এখনো তার ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ইমরান অন্তত কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকবেন।
তবে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেছিলেন, চিকিৎসকেরা যদি মনে করেন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন, তাহলে তাকে ভর্তি করা হবে। আর চিকিৎসকেরা যদি মনে করেন কারাগারেই তার চিকিৎসা সম্ভব, তাহলে তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হবে।
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল প্যানেলের মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ দিতে বলা হয়।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।