সিলেট ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিনিধি/বালাগঞ্জঃঃ
বালাগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ ওঠেছে। গত বছরের ২৬নভেম্বর তিনি এই উপজেলায় যোগদানের পর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নিকট তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পড়েছে।
চলতি বছরের ৩০জুন উপজেলার পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার মনোনিত লোকজন দিয়ে মনগড়া পরিচালনা কমিটি গঠন করেন এই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। বিতর্কিত এই কমিটি গঠন করায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গঠিত কমিটি স্থগিত করেন দেন বলে জানা গেছে।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ২৪আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবক হোছনা বেগম, দিলশানা বেগম ও রুবি বেগম স্বাক্ষরিত অভিযোগে তারা নালিশ জানিয়ে বলেছেন, সুন্দরী প্রধান শিক্ষক থাকা স্কুলগুলোতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ঘনঘন পরিদর্শনে যান। ক্লাস বাদ দিয়ে নারী শিক্ষকদের নিয়ে অফিস কক্ষে খোশগল্পে মত্ত থাকেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।
২০আগস্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলে পরিদর্শনে যান। ওই সময় সেখানে থাকা নারী অভিভাবকদের দিকে অশালীন দৃষ্টিতে তাকান তিনি। হোছনা বেগম নামের এক অভিভাবকের দিকে কামাতুর দৃষ্টিতে তাকালে হোছনা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার চোখের আড়ালে চলে যান। তিনি হোছনার পিছু নেন, এতে হোছনা বিব্রত হয়ে বাড়িতে চলে যান। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলেকা বেগমের সঙ্গে অফিস রুমে লম্বা সময় কাটানোর বিষয়টি এলাকায় চাউর রয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অফিস কক্ষে অনৈতিক কর্মকা- দেখে অভিভাবকদের পরামর্শে প্রতিবাদ করেন ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা। এসময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সালমার সাথে অশালীন আচরণ করেন। তাকে অফিস কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে শাষান, হুমকি দেন। এরপর থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সালমাকে হেনস্থা করতে কোনো কারণ ছাড়াই একাধিকবার শোকজ করেন। সালমাকে মানসিক চাপে রাখতে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্যত্র সরিয়ে তার মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে চাচ্ছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। আর কেউ যেন তার অপর্মের প্রতিবাদ করার সাহস না পায়। সালমা সুলতানার কানের পর্দায় সমস্যাজনিত কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬আগস্ট ৫দিনের ছুটির দরখাস্ত করেন তিনি। কিন্তু সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তার ছুটি নামঞ্জুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো উল্লেখ করে ২৪আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সালমা।
এদিকে, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সাবেক মহিলা প্রতিনিধি সাবেক ইউপি সদস্য কুলসুমা বেগম স্বাক্ষরিত ২৪ আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলেকা বেগম সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আতাত করে স্কুলের পুরাতন ভবনের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সময়মতো অফিস করেন না। তিনি কর্মস্থলে না থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় থাকেন। ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুর হাজী করম উল্লাহ সরকারি স্কুলে প্রতিদিন তার স্ত্রীকে পৌঁছে দিয়ে তিনি কর্মস্থলে আসেন। তিনি নিজেকে ক্ষমতাবান হিসিবে জাহির করেন। দম্ভোক্তি করে বলেন জেলা বা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাকি তার কথায় উঠবস করেন। তার ক্ষমতার হাত নাকি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যন্ত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কতিপয় লোকজন দিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দিনদিন তার অপকর্মের ফিরিস্তি দীর্ঘ হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। তার এই অন্যায় কর্মকান্ডে অনেক শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে বেতন তুলার সুযোগ পাচ্ছেন। দেখা গেছে, একাধিক স্কুলে দুপুর পর্যন্ত একজন শিক্ষক থাকেন, এরপর স্কুল তালা দিয়ে তারা চলে যান।
পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলেকা বেগম অভিযোগ অস্বীকার বলেন, এসব অসত্য-বানোয়াট, আমি বহুমুখি ষড়যন্ত্রের শিকার। নিজেদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় মহল বিশেষ আমার মানহানি করতে নানা কুৎসা রটাচ্ছে।
এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার বলেন, এগুলো বিভ্রান্তিকর কথা, তদন্ত হোক আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। স্থানীয় একটি স্বার্থ বঞ্চিত মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।