সিলেট ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬
প্রতিনিধি / নবীগঞ্জ ::
নবীগঞ্জের প্রতারক আরজুকে ধরিয়ে দিন। সে অবলা নারীদের বিয়ে করে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে কাচা পয়সা কামাই করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয় গেছে।
অভিযোগ জানাযায়, বিয়ের পর আরজু তার স্ত্রীকে বিদেশে কাজ কাম করিয়ে টাকা পয়সা নেয়। এবং যখনই নারী গুলো কাজ কর্মে অক্ষম হয় তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে শারিরীক নির্যাতন করে যত টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। পরে তাদেরকে ছেড়ে অন্য মেয়ের খুঁজে স্থান বদল করে আত্ম গোপনে চলে যায়।
এমন এক প্রতারণার শিকার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাও গ্রামের মোচ্ছা: ছুরেহা বেগম। সে একই গ্রামের মৃত ছলিম উল্লা’র মেয়েকে বিয়ে করেন, মৃত ফয়াজ উল্লা’র পুত্র মো: আরজু মিয়া বিগত ২০১৮ সালের জুন মাসের ৫ তারিখ ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দুই লক্ষ টাকা কাবিনমূলে তাদের বিবাহ হয়। বিবাহ জীবনের কিছু দিন পর পরই তাদের সংসার জীবনে নেমে আসে নানান অশান্তি। এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীকে বিদেশ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে তাকে। এতে স্ত্রী অনিহা প্রকাশ করলে তার উপর চলে শারিরীক নির্যাতন। অবশেষে মেয়ের পরিবার থেকে টাকা এনে প্রথমে তার স্ত্রীকে জর্ডান পাঠায় গৃহ পরিচালিকা হিসাবে কাজ করতে। সেখানে ২ বছর চাকুরী করে কামাই রুজির বাড়িতে ফিরে আসে। কিছুদিন একটু ভাল থাকার কয়েক মাস পর আবার শুরু হয় অশান্তি। পরে আবার ওমান গৃহ পরিচালিকা হিসাবে কাজের জন্য ওমান ২বছর চাকুরী করে সেই টাকা পয়সা তার স্ত্রী কাছে মাসে মাসে দিয়ে হয়। ৪ বছর পর স্ত্রী দেশে আসলে তার স্বামী যৌতুক হিসাবে একটি মিশুক গাড়ি ক্রয় করার জন্য ২লক্ষ টাকা দাবী করে। এতে, স্ত্রী অনিহা প্রকাশ করে বলে আমার কাছে এতো টাকা নাই, কিন্তু তার স্বামী কিছুতেই মানতে রাজি নয়। অবশেষে স্ত্রী তার মায়ের কাছে বিষয়টি অবগত করলে তার মেয়ের সুখ শান্তি চিন্তা করে মিশুক কিনার জন্য ২লক্ষ টাকা দেন। এর কিছু দিন পর আবার তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য ৩লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে।
এতে তার স্ত্রী বলে, আমি গরিব ঘরের সন্তান, এতো টাকা দিতে পারবে না আমার মা- বাবা। এতে গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ স্ত্রী মোচ্ছা: ছুরেহা বেগমকে শারিরীক নির্যাতন করে তার বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বলে টাকা না দিতে পারলে এই বাড়িতে তর কোন জায়গা নাই। এতে নিরুপায় হয়ে সে তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। পিত্রালয়ে এসে অনাহার অর্ধাহার অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার কোন খোঁজ খবর বা ভরণ পোষণ না নেয়ায় পারিবারিক জজ আদালত (০১) নবীগঞ্জ- হবিগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত স্ত্রী ছুরেহা বেগম।
অভিযোগে দেননোহর, ভরণ পোষণ, ইদ্দতকালীন ভাতা ও ভরণ পোষণের অপারগতা প্রকাশ সহ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে নালিশের কোন কারণ আদালতে উপস্থাপন না করে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে। এই প্রতারক আরজু তার চক্রের মাধ্যমে মেয়েদেকে বিবাহ করে বিদেশ পাঠিয়ে রোজগার সহ স্ত্রীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা পয়সা আদায় করাই তার এক মাত্র নেশা এবং পেশা। স্ত্রীকে প্রবাসে পাঠিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার পরে অন্যত্র আত্মগোপনে চলে যায় অন্য অবলা নারীকে নিয়ে। এভাবেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অবলা মেয়েরকে নির্যাতন করে আসছে। তাই সংবাদে উল্লেখিত ছবি যুক্ত মানুষটিকে দেখা মাত্র ধরিয়ে দিলে বাংলার আপামর জনগন এই প্রতারক চক্রের ফাঁদ থেকে রক্ত পেতে পারে৷