সিলেট ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার সুন্দরবনসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা দুই ফিশিং ট্রলারসহ ২৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকা জেলেদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে দুবলার চর কোস্টগার্ড স্টেশনে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ট্রলার দুটি হলো এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি আল-আমীন। এর মধ্যে এফবি মায়ের দোয়ায় ১২ জন এবং এফবি আল-আমীনে ১৬ জন জেলে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া সবাই বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মৎস্যজীবী বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে পৃথকভাবে গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়া ট্রলার দুটির জেলেদের উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বিকল ইঞ্জিন
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের। ইঞ্জিন সচল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন জেলেরা। এরপর ঢেউ ও স্রোতের টানে ট্রলারটি সাগরে ভাসতে থাকে।
প্রায় একদিন পর ট্রলারটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলে জেলেরা তাদের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিপদের কথা জানান। খবর পেয়ে ট্রলারের মালিক শরণখোলার উত্তর কদমতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী কালাম খাঁ কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে সহায়তা চান।
পরে কোস্টগার্ডের দুবলা স্টেশনের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে দুবলার চর থেকে প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্র থেকে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন।
নৌবাহিনীর টহলে ধরা পড়ে আরেক বিপদগ্রস্ত ট্রলার
একই সময়ে গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা এফবি আল-আমীন ট্রলারটিও বিপদের মধ্যে পড়ে।
নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলের সময় বিএনএস কপোতাক্ষ জাহাজের সদস্যরা ট্রলারটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে সেখানে থাকা ১৬ জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার হওয়া জেলেদের ও ট্রলারটি কোস্টগার্ডের দুবলা স্টেশনের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্বজনদের মধ্যে ফিরে আসে স্বস্তি
গভীর সমুদ্রে দুই ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরণখোলায় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় কোনো নিশ্চিত খবর না পাওয়ায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর তৎপরতায় ২৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়েছে
উদ্ধারের পর ২৮ জেলেকেই পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর কোস্টগার্ড স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করলেও উদ্ধার হওয়া জেলেরা বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন।
দুই ট্রলারের মালিক শরণখোলার
উদ্ধার হওয়া এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক শরণখোলার উত্তর কদমতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী কালাম খাঁ। অপর ট্রলার এফবি আল-আমীনের মালিক একই এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সোবাহ মৃধা।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে ট্রলার মালিকদের দুবলার চর স্টেশনে আসতে বলা হয়েছে। তারা শরণখোলা থেকে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিপদে জেলেদের পাশে কোস্টগার্ড
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের মহাজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রে বিপদে পড়া জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের এমন মানবিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়া বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে উত্তাল সাগরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এ ঘটনায় জরুরি নম্বরে ফোন পাওয়ার পর কোস্টগার্ডের দ্রুত অভিযান এবং নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল দুই ট্রলারের ২৮ জেলের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।