সিলেট ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনেরউপকূলে একদিকে উত্তাল সাগর। অন্যদিকে নদীর ভাঙন। কোথাও ঘরবাড়ি গিলে খাচ্ছে নদী, কোথাও লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হচ্ছে ফসলের মাঠ। সুপেয় পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে নারীদের। ঘূর্ণিঝড় এলে আতঙ্কে রাত কাটে উপকূলের মানুষের। দুর্যোগের পর শুরু হয় আরেক যুদ্ধ—খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে নীরব এবং নির্মম শিকার কারা? উপকূলের মানুষের জীবন বাস্তবতা বলছে—নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, পানির সংকট ও পরিবেশগত পরিবর্তন মানুষের জীবন-জীবিকাকে কঠিন করে তুলছে। আর সেই সংকটের সবচেয়ে ভারী বোঝা বহন করছেন নারী ও শিশুরা।
বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর অভিঘাতের শিকার হচ্ছে দেশের উপকূলীয় মানুষ। বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক যেন ক্রমেই এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দুর্যোগের পরও শেষ হয় না নারীর যুদ্ধ
উপকূলের কোনো গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন হয় নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো থেকে শুরু করে সেখানে অবস্থান করা—সবকিছুই নারীদের জন্য সহজ নয়।
শিশুকে কোলে নিয়ে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে, কখনো বৃদ্ধ স্বজনকে ধরে নিয়ে নারীদের ছুটতে হয় আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। দুর্যোগের মুহূর্তে তাদের নিরাপত্তা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তেমনি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়েও শুরু হয় নতুন সংকট।
বিশুদ্ধ পানি নেই। স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল। খাদ্যের সংকট। চিকিৎসা সেবা সীমিত। সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তা। অনেক ক্ষেত্রে ঘরবাড়ি হারিয়ে দীর্ঘদিন অন্যের আশ্রয়ে থাকতে হয়।
দুর্যোগের ক্ষত শুকানোর আগেই আবার জীবিকা ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম শুরু করতে হয়।
এই বাস্তবতায় একজন উপকূলীয় নারী শুধু নিজের জীবন রক্ষা করেন না; সন্তান, পরিবার ও সংসারের টিকে থাকার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন। লবণাক্ত পানি বদলে দিচ্ছে জীবন উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সংকট লবণাক্ততা।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস, নদ-নদীর পরিবর্তন এবং মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ছে। কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক এলাকায় মিঠা পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নারী। কারণ পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহের দায়িত্ব এখনো অনেকাংশে নারীর ওপর। ফলে দূরের পুকুর, গভীর নলকূপ কিংবা নিরাপদ পানির উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়।
এই অতিরিক্ত শ্রম শুধু তাদের শারীরিক কষ্ট বাড়ায় না; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগও কমিয়ে দেয়।
আর শিশুরা?
পানির সংকট, অপুষ্টি, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অনিরাপদ পরিবেশ তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
মাতৃত্বও যখন জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ি কিংবা কৃষির ওপর সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যেও পড়ছে।
উপকূলীয় নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। লবণাক্ত পানি, দূষিত পরিবেশ, অপুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট—সবকিছু মিলিয়ে প্রজনন স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন।
গর্ভবতী নারীর জন্য নিরাপদ পানি, পুষ্টিকর খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এসব সুবিধা অনেক সময়ই পর্যাপ্ত থাকে না।
ফলে একটি দুর্যোগ শুধু একজন মায়ের জীবনকে বিপন্ন করে না; তার গর্ভের শিশুর ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
এখানেই জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক দিকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এক প্রজন্মের পরিবেশগত সংকট পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও জীবনমানকে প্রভাবিত করতে পারে।
শিশুরা জন্মের আগেই ঝুঁকিতে?
পরিবেশ দূষণ, অতিরিক্ত তাপ, অপুষ্টি, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর পরিবেশগত চাপের প্রভাবও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যখন একটি পরিবার বারবার স্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়, তখন শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হয়। চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। নিরাপদ পরিবেশ হারিয়ে যায়।
অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন একটি শিশুর জীবনে শুধু আজকের সমস্যা তৈরি করে না; তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও সংকুচিত করে দিতে পারে।
বাস্তুচ্যুতির বোঝা
উপকূলের আরেক ভয়াবহ বাস্তবতা নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতি। আজ যে বাড়িতে একটি পরিবার বসবাস করছে, আগামী বছর হয়তো সেই বাড়ির জায়গাটিই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। জমি হারিয়ে মানুষকে অন্যত্র যেতে হবে। কেউ শহরমুখী হবে, কেউ অন্য গ্রামে আশ্রয় নেবে। এই বাস্তুচ্যুতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ে শিশুদের ওপর।
স্কুল বদলে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে শিশুরাও শ্রমে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
নারীদের ক্ষেত্রেও সংকট কম নয়। নতুন জায়গায় নিরাপত্তাহীনতা, কর্মসংস্থানের অভাব, সামাজিক অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে।
জলবায়ু সংকটের সঙ্গে দারিদ্র্যের যোগসূত্র
উপকূলের মানুষ মূলত কৃষি, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ, দিনমজুরি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল।
একটি ঘূর্ণিঝড় এসে কয়েক বছরের সঞ্চয় ধ্বংস করে দিতে পারে। একটি নদীভাঙন একটি পরিবারের বসতভিটা কেড়ে নিতে পারে। লবণাক্ততা একটি কৃষকের জমিকে অনুৎপাদনশীল করে তুলতে পারে।
জীবিকা হারালে পরিবারের আয় কমে যায়। তখন খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় সংকুচিত করতে হয়। এই সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারী ও শিশুর ওপর।
এভাবেই জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও বৈষম্য একে অপরকে শক্তিশালী করে। সুন্দরবন আছে বলেই এখনো টিকে আছে উপকূল উপকূলের এই বিপন্নতার মাঝেও সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ সুন্দরবন।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ভয়াবহ আঘাতের সামনে সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। উপকূলীয় জনপদকে ঝড়ের শক্তি থেকে আংশিক সুরক্ষা দেয় এই বিশাল ম্যানগ্রোভ বন।
একই সঙ্গে সুন্দরবন থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধু, গোলপাতাসহ বিভিন্ন বনজ ও জলজ সম্পদ সংগ্রহ করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।
অর্থাৎ সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়—এটি উপকূলের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার অংশ।
কিন্তু সেই সুন্দরবনও আজ জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, দূষণ, অবৈধ শিকার ও নানা মানবসৃষ্ট চাপের মুখে। সুন্দরবন দুর্বল হলে উপকূলের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
উন্নত বিশ্বের দায়, ক্ষতি বাংলাদেশের
জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা বড় আলোচনার বিষয়। কিন্তু এর প্রভাব সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে না।
যারা জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেছে, তারাই অনেক ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ তার একটি বড় উদাহরণ।
অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দুর্যোগের পর দ্রুত পুনর্বাসন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার সবসময় সম্ভব হয় না।
ফলে একই পরিবার বারবার ক্ষতির মুখে পড়ে। একবার ঘর হারায়। আবার জমি হারায়। পরে জীবিকা হারায়। এই ধারাবাহিক ক্ষয় একটি পরিবারকে ধীরে ধীরে দারিদ্র্যের গভীরে ঠেলে দেয়।
শুধু সম্মেলন নয়, দরকার মাঠের বাস্তব পরিবর্তন
বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষতি, অভিযোজন ও অর্থায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু উপকূলের একজন নারী কিংবা শিশুর কাছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—আজ তার ঘরে নিরাপদ পানি আছে কি না, কাল সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারবে কি না, ঘূর্ণিঝড় এলে নিরাপদ আশ্রয় পাবে কি না।
তাই জলবায়ু মোকাবিলার পরিকল্পনায় স্থানীয় বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুকে কেন্দ্র করে আলাদা অভিযোজন পরিকল্পনা প্রয়োজন। কী করতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষায় শুধু বাঁধ নির্মাণ বা দুর্যোগের সময় ত্রাণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা।
এর মধ্যে থাকতে পারে—
প্রথমত, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ ও সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা। দ্বিতীয়ত, নারী ও শিশুদের জন্য দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করা। চতুর্থত, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পরিকল্পিত পুনর্বাসন। পঞ্চমত, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার বিশেষ ব্যবস্থা। ষষ্ঠত, উপকূলীয় নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানো। সপ্তমত, সুন্দরবন ও উপকূলীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ।
অষ্টমত, জলবায়ু অভিযোজনের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা। শেষ প্রশ্ন—আগামী প্রজন্ম কোথায় দাঁড়াবে?
উপকূলের মাটি বদলে যাচ্ছে। নদীর গতিপথ বদলাচ্ছে। লবণাক্ততা বাড়ছে। দুর্যোগের চরিত্র বদলাচ্ছে। মানুষের জীবিকাও বদলে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তনের মাঝখানে একজন মা তার সন্তানকে নিয়ে শুধু একটি নিরাপদ আগামী দিনের স্বপ্ন দেখেন।
সন্তান যেন সুস্থ থাকে। স্কুলে যেতে পারে। নিরাপদ পানি পায়। ঝড় এলে নিরাপদ আশ্রয় পায়। বাড়ি হারালে আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়।
কিন্তু সেই স্বপ্নের সামনে যদি একের পর এক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, দারিদ্র্য, দূষণ ও বাস্তুচ্যুতি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছি আগামী প্রজন্মের জন্য?
সুন্দরবন, নদী, উপকূল ও মানুষের জীবন—সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি দুর্বল হলে অন্যটিও দুর্বল হয়।
তাই জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু পরিবেশের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। এটি নারী ও শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্ন। এটি আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
আজ যদি উপকূলের নারী ও শিশুর কান্না, পানির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আর্তনাদ কিংবা দুর্যোগের পর নতুন করে ঘর বাঁধার সংগ্রামকে আমরা কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে দেখি, তাহলে হয়তো সবচেয়ে বড় বাস্তবতাটিই চোখ এড়িয়ে যাবে।
প্রকৃতি বদলাচ্ছে। মানুষের জীবনও বদলাচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে তারা, যারা জলবায়ু সংকট তৈরিতে সবচেয়ে কম দায়ী।
সুন্দরবন বাঁচাতে হবে, উপকূল বাঁচাতে হবে। কিন্তু তারও আগে বাঁচাতে হবে উপকূলের মানুষকে—বিশেষ করে সেই নারী ও শিশুদের, যাদের ভবিষ্যৎ আজ জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে নীরব ঝুঁকির মুখে।