সিলেট ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং ব্যবহার, পোড়া তেল, লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সিলেট মহানগরীর দুটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এই জরিমানা আদায় করা হয়।।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন কার্যালয়, সিলেট এবং র্যাব-৯ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সিলেট মহানগরীর হুমায়ুন চত্বর ও কদমতলীর পাঠানপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে হুমায়ুন চত্বর এলাকার নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্ট এবং কদমতলীর পাঠানপাড়া এলাকার ভাই ভাই বেকারিতে অভিযান চালানো হয়। কদমতলীর ভাই ভাই বেকারিতে গিয়ে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে একাধিক অনিয়ম দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সেখানে পোড়া তেল ব্যবহার, লবণে আয়োডিনের অনুপস্থিতি, লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় বেকারির ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা যায়। খাদ্যকর্মীদের কয়েকজনকে খালি গায়ে এবং গ্লাভস ছাড়াই খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। পাশাপাশি খাদ্য তৈরিতে অননুমোদিত টেক্সটাইল কালার ব্যবহারের বিষয়টিও ধরা পড়ে।
বেকারির খোলা অংশে প্রয়োজনীয় নেট বা ঝালির ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে মশা-মাছি ও ধুলাবালি সহজেই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ ছিল। এতে খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে ভাই ভাই ফুড প্রোডাক্টসকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে, হুমায়ুন চত্বর এলাকার নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অনিয়ম পাওয়া যায়। অভিযানে রেস্টুরেন্টে প্যাডেল ও ঢাকনাবিহীন অপরিষ্কার ডাস্টবিন ব্যবহার করতে দেখা যায়। রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় রাখা ছিল। একই ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ফ্রিজের ভেতরে মাংসের রক্ত জমে বরফ হয়ে থাকার বিষয়টিও নজরে আসে। রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য মাংসও একই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া খাদ্য প্রস্তুতের কাজে খবরের কাগজ ব্যবহার এবং কিছু খাদ্যপকরণ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। মুরগির বিষ্টাযুক্ত ডিম যথাযথভাবে পরিষ্কার বা ধোয়া ছাড়াই সরাসরি খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সার্বিকভাবে রেস্টুরেন্টটির খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর বলে পরিলক্ষিত হয়। এসব অনিয়মের দায়ে নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। খাদ্যপণ্যে অনিয়ম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।’