সিলেট ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
ছয়লেনের সম্প্রসারণ কাজ আর খানাখন্দের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক। আগে যেখানে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে বা ফিরতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগতো এখন সেখানে লাগছে ৮-১০ ঘন্টা। ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে মহাসড়কে। বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা। মহাসড়কজুড়ে খানাখন্দ ও সম্প্রসারণ কাজের জন্য চরম ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। গন্তব্যে পৌঁছতে ২০ ঘন্টার বেশি সময় লাগারও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সওজ সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এই প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কথা রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে প্রায় এক চতুর্থাংশ।
গত চার বছর ধরেই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের একপাশ বন্ধ রেখে চলছে সম্প্রসারণ কাজ। বেশ কয়েকটি স্থানে চলছে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ। ধীরগতির কারণে চার বছরে এক চতুর্থাংশের বেশি কাজ করতে পারেনি সওজ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে কাজে গতি আসছে না। এই জটিলতায়ই চারবছরে কাঙ্খিত কাজ দৃশ্যমান হয়নি।
এদিকে, চার বছর ধরে মহাসড়কে ছয়লেনের কাজ চলায় সওজ কর্তৃপক্ষও নিয়মিত সংস্কার কাজে গুরুত্ব দিচ্ছে না। মাঝে মধ্যে খানাখন্দে ইট-সুরকি ও বিটুমিন ঢেলে কোনমতে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ঠেকসই উন্নয়ন কিংবা সংস্কারে কোন প্রকল্পই হাতে নিচ্ছে না সওজ। এতে মহাসড়কের অন্তত ৩০টি স্থান বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। ভাঙাচোরা অবস্থা ও সম্প্রসারণ কাজের জন্য সরু হয়ে এসেছে সড়ক। ফলে স্থানগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এছাড়া মহাসড়কের উপর কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগে থাকে। ফলে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে অলিপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক এবং বেশ কয়েকটি সেতু ও কালভার্টের কাজ চলছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলারও বেশ কয়েকটি স্থানে চলছে ছয়লেনের কাজ। নির্মাণ কাজের জন্য এসব স্থানে যানবাহনকে চলতে হচ্ছে ধীর গতিতে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে বাড়ছে ঝুঁকিও। ভোগান্তির এই মহাসড়কে এখন প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে বড় বড় দুর্ঘটনা।
আগামী ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। ভোগান্তির বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে সওজ কর্তৃপক্ষও। সিলেটের ব্যাংকার আজিম আহমদ জানান, ঈদের ছুটিতে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঢাকার সাভারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু যানজটের যে শঙ্কা দেখছেন তাতে শেষ পর্যন্ত হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাও লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শ্যামলী পরিবহনের চালক সুফিয়ান আহমদ জানান, ভাঙাচোরা সড়ক আর যানজটের কারণে এখন সিলেট থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ৮ ঘন্টা সময় লাগছে। ঈদের সময় ভয়াবহ যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এমনটি হলে ২০ ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি-না বুঝতে পারছি না।
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমীর হোসেন জানান, প্রতিবার ঈদের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ে। আর সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ছয়লেনের কাজ চলায় ভোগান্তি অন্যবারের তুলনায় কিছু বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক।