সিলেট ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও বিষয়টি তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচনের আগে ও ভোট চলাকালে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
নির্বাচনে নানারকম জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরে আবিদ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও কালক্ষেপণের চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নানারকম জালিয়াতি ঘটেছে। এরমধ্যে নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপারে ক্রমিক নাম্বার ছিল না। ব্যবহৃত ছাপানো ব্যালট পেপারের সংখ্যা, অব্যবহৃত ব্যালট পেপারের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।’
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আচরণবিধি সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় পোলিং অফিসাররা সংবাদকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। পোলিং অফিসারদের দ্বারা বারবার মবের শিকার হয়েছে ছাত্রদলের প্রার্থীরা। বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইডের সহায়তায় একাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে।’
একই ব্যক্তি একাধিক ভোট দিয়েছে কিনা তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘পূর্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রদল নতুন সংস্কৃতিতে এসেছে। নির্বাচনের দিন থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত অসামাঞ্জ্যসতা থাকলেও ছাত্রদল প্যানেল কোনো মিছিল মিটিং কর্মসূচি করেনি।’
নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ তদন্ত করবে বলেও আশা করেন আবিদুল ইসলাম খান।
একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে শিক্ষার্থীদের সামনে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ আনেন প্যানেলের সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বলীয়ান হয়ে ছাত্ররাজনীতি করি, আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করার লক্ষ্য নিয়েই এই রাজনীতি বেছে নিয়েছি। অথচ বিগত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে শিক্ষার্থীদের সামনে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তবুও অভিভাবকতুল্য শিক্ষকদের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আন্তরিক থেকেছি। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরেও নানান অনিয়ম দেখা দেয়। আমরা নিয়ম মেনে অভিযোগ জানালেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেসবের সমাধান দিতে ব্যর্থ হন। তারপরও পরম করুণাময়ের অশেষ মেহেরবানী এবং আপনাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় আমরা সেই প্রতিবন্ধকতার বেড়াজাল ভেদ করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি এবং আস্থা অর্জনে পথচলা অব্যাহত রেখেছি।
ছাত্রদল প্যানেলের ১১ দফা অভিযোগগুলো হলো:
১. ব্যালট জালিয়াতি: ভোটার উপস্থিতির আগেই স্বাক্ষর ও নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ব্যালট সরবরাহের অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটার তালিকা প্রকাশে কালক্ষেপণ করছে ঢাবি প্রশাসন।
২. ক্রমিক নম্বরবিহীন ব্যালট: ২০১৯ সালের নির্বাচনের মতো এবারও ব্যালটে কোনো ক্রমিক নম্বর ছিল না। ছাপানো, ব্যবহৃত ও ফেরত ব্যালটের হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি।
৩. নকল ব্যালট উদ্ধার: কোন প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে তা জানানো হয়নি। নীলক্ষেতে অরক্ষিত অবস্থায় বিপুল সংখ্যক ব্যালট উদ্ধার হয়েছে।
৪. অস্বচ্ছ ভোট গণনা: ভোট গণনা মেশিন এবং সফটওয়্যারের নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের সময় নির্দিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক ও টেকনিশিয়ান উপস্থিত থাকলেও ভোটার ও প্রার্থীদেরকে এ বিষয়ে মোটেও অবহিত করা হয়নি।
৫. পোলিং এজেন্ট তালিকা: প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট নেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও ভোটের আগের মধ্যরাতে পোলিং এজেন্টদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রস্তাবিত বিভিন্ন কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের বাদ দেয়া হয়।
৬. এজেন্ট প্রবেশে বাধা: ভোটগ্রহণের আগে পোলিং এজেন্টদেরকে আইডি কার্ড সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে সরবরাহ করা হয়নি। যে কারণে অনেক পোলিং এজেন্ট যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রের সম্মুখে উপস্থিত হয়েও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি।
৭. কেন্দ্র বাড়ানো: প্রার্থীদের জানানো হয়েছিল ৮ কেন্দ্রে ভোট হবে, কিন্তু বাস্তবে ১৮ কেন্দ্রে ভোট হয়। ফলে নির্দিষ্ট প্যানেল ছাড়া অন্যরা পর্যাপ্ত এজেন্ট দিতে পারেনি।
৮. অভিজ্ঞতাহীন অফিসার: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। চিফ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক পোলিং অফিসার নিয়োগ করার কথা থাকলেও তাদেরকে ঢাবি প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগ দেয়া হয়েছে
৯. নিরাপত্তায় অনিয়ম: নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে নিরাপত্তার দায়িত্বরত বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইড সদস্যের সহায়তায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ক্যাম্পাসে অবাধে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়েছে। একাধিক বহিরাগত শিবিরকর্মীকে শিক্ষার্থীরা হাতেনাতে ধরে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেছে।
১০. গণনায় এজেন্ট বঞ্চিত: ভোটগণনার সময়ে পোলিং এজেন্টদেরকে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বাধ্য করা হয়েছে। ভোটগণনা প্রক্রিয়ার সাথে পোলিং এজেন্টদেরকে যথাযথভাবে যুক্ত না করায় এবং গণনাপ্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সকল পোলিং এজেন্ট সহ অধিকাংশ প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর না করেই ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন।
১১. সরঞ্জাম ত্রুটি: অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার, মার্কার না থাকায় বলপেনে ভোট দেয়া এবং অস্থায়ী কালি ব্যবহারে ভোট নষ্ট ও ভুয়া ভোটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।