সিলেটে এবার শুরু হচ্ছে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫

সিলেটে এবার শুরু হচ্ছে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান

লন্ডন  বাংলা ডেস্ক ::

 

‘দখল আর দৌরাত্ম্যে’ জনদুর্ভোগের নাম হয়ে উঠেছে সিলেটের ফুটপাত। পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। সময় সময় অভিযান চালিয়ে তাদের সরানো হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তবে এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন। লালদিঘীরপাড়ে অস্থায়ী মার্কেটে হকারদের ফেরানোর জন্য চলছে জোর প্রস্তুতি। আর সেই প্রস্তুতি শেষ হলেই হকারদের ঠিকানায় তারা না ফিরলে সিলেটের ফুটপাতকে ঘিরে কঠোর অ্যাকশনে নামবে প্রশাসন। সড়ক ও ফুটপাতে কোন হকার বসলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।

 

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নবাগত কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘লালদিঘীরপারে হকার্স মার্কেটের কাজ শেষ হলেই শুরু হবে সিলেট শহরজুড়ে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান। সিলেটকে নিরাপদ, হকারমুক্ত ও যানজটমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে খুব শিগগিরই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এই অভিযান পরিচালনা করবে প্রশাসন। তবে তার আগে নগরীর লালদিঘীরপারে হকার্স মার্কেটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। যাতে করে হকাররা আর রাস্তায় না ফেরেন। হকারদের ব্যবসার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।’

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে সিলেটের ফুটপাত ও রাস্তা ছিল হকারদের দখলে। কয়েকদিন পর পর সিলেট সিটি করপোরেশন ও এসএমপি পুলিশের অভিযানে সাময়িকভাবে ফুটপাত  ও রাস্তা হকারমুক্ত হলেও ফের তারা রাস্তায় ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেন। এতে প্রতিদিনই যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। অতীতে বহুবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসিতও করা হয়েছে, কিন্তু ফের সড়ক ও ফুটপাতে ফিরে এসেছেন হকাররা। এভাবেই চলছিল প্রশাসন ও হকারদের তামাসা। সর্বশেষ সিলেটে নবাগত পুলিশ কমিশনারের আগমনের পর সিলেটে যেন পরিবর্তনের ছোয়া লাগতে শুরু করেছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালে তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আমলে লালদিঘীরপাড়ের মাঠে প্রথম হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেসময় কয়েকশ’ হকার ফুটপাত ছেড়ে সেখানে ব্যবসা শুরু করলেও, দীর্ঘদিন টিকতে পারেননি। আলো স্বল্পতা, ড্রেনেজ সমস্যা এবং নিরাপত্তাহীনতা ব্যবসার পরিবেশকে অনুকূল রাখেনি। ফলে হকাররা ধীরে ধীরে আবার ফিরেছেন আগের জায়গায় ‘ফুটপাত ও সড়কে’। এরপর ২০২৩ সালে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় লালদিঘীরপাড় মাঠে হকারদের বসানো হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক বিশৃঙ্খল পরিবেশে সুযোগ নিয়ে হকাররা আবার রাস্তায় চলে আসেন।

 

 

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত চেষ্টা করছি লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটের কাজ শেষ করতে। প্রায় ২-৩ হাজার হকার এখানে ব্যবসা করতে পারবেন। তাদের ব্যবসার জন্য উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। লালদিঘীরপাড়ের হকার্স মার্কেটের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শেষ হলে আমরা ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নামবো।

 

 

সিলেটের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট নগরীর লালদিঘীরপাড়ে হকার্স মার্কেটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলে খুব শিগগিরই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু হবে। তবে তার আগে হকারদের পুনর্বাসনের জায়গাটি সম্পন্ন করা হবে। হকারদের ব্যবসার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। সিলেটের হকারদের পুনর্বাসনের জায়গা ঠিক হওয়ার পরও যদিকেউ আবার ফুটপাতে বসেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

সিলেট শহরের বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের সামনে অবৈধ গাড়ি পার্কিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সাথে কথা বলা হবে যাতে তারা নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেন। খুব শীঘ্রই আমরা এই বিষয়গুলোতে কাজ শুরু করবো।’

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031