সিলেট ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ
দুইটা কিডনী বিকল হয়ে চিকিৎসার অভাবে শয্যাসায়ী স্বর্ণা বাঁচতে চায়।মাত্র কয়েক বছর আগেও হাসিখুশি, প্রাণচঞ্চল এক তরুণী ছিল স্বর্ণা দাশ। পরিবার-পরিজনকে ঘিরে ছিল তার অসংখ্য স্বপ্ন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে ভবিষ্যতের নতুন পথচলার স্বপ্ন দেখছিল সে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ থমকে গেছে। দুটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হওয়ায় অশঙ্কাজনক অবস্থায় দিন পার করছে স্বর্ণার পরিবার।
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়েরে মনোহর পুর গ্রামের দিনমুজুর প্রদিপ দাশ ও কৃষ্ণাদাস দম্পতির বড় মেয়ে স্বর্না। গত তিন বছর আগে তার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার দুটি কিডনিই অকার্যকর। সেই মুহূর্ত থেকেই যেন পুরো পরিবার অন্ধকারে ঢেকে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন বাবা -মা। সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতলসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের তত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহন করে হারিয়েছেন পিতার অর্থ সম্পত্তি। বর্তমানে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুস সাকিবের তত্ত্বাবধানে থাকা স্বর্ণার শারিরিক অবস্থা অশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
তবে কিডনি প্রতিস্থাপন তো দূরের কথা দু বেলা দুমোটু ভাতও জুটজে না পরিবারটি। এমন অবস্থায় দিশেহারা স্বর্ণার পিতা মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত হয়েছেন । একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় ত্যাগ আর কী হতে পারে! কিন্তু এখানেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাব। কিডনি প্রতিস্থাপন এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। দিনমজুর বাবার পক্ষে এ বিপুল অর্থের ব্যবস্থা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এতো অর্থ না থাকায় দেশের বিত্তবান ও প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগীতা চেয়েছে স্বর্ণার পরিবার। সকলের সামান্য সহযোগিতায় একটি তরুণ প্রাণকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
জানা গেছে, প্রদিপ দাশ ও কৃষ্ণা দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এক সময়ের ফুটফুটে মেধাবী স্বর্না দুরন্তপনায় কাটিয়েছে ছুট বেলা। কে জানত সদা হাস্যউজ্জল এই মেয়েটির শরীরে রয়েছে কঠিন রোগ। বর্তমানে স্বর্ণার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাকে নিয়মিত ডায়ালসিস করাতে হচ্ছে, যা চালিয়ে নেওয়াও পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই কিডনী প্রতিস্থাপনে বিত্তবান ও প্রবাসীদের সহযোগীতা কামনা করছেন স্বর্ণার পরিবার। জরাজির্ণ ঘরে বসবাস করা এই পরিবারটির হাতে নেই কোন অর্থ। মেয়ের চিকিৎসা ব্যায় মেটানো কিংবা কিডনি প্রতিস্থাপনে বিপুল পরিমান অর্থের জোগান না দিতে পারায় পিতা মাতার চোখের জল যেন থামছে না। মেয়ের অসহ্য যন্ত্রণা আর অসহায়ত্ব প্রতিদিন তাদের বুক ভেঙে দিচ্ছে। স্বর্ণা বাঁচতে চায়। সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে সমাজের মানবিক ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতার ওপর। আসুন আমরা স্বর্ণার জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি। বিকাশ ০১৭৩৩০৮৩৭১৬