সিলেট ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৬
প্রতিনিধি / নবীগঞ্জ ::
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা উপকরণ, আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
গত বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ২০২৫- ২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আনিনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাকিল আহমদ। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাগানের সভাপতি গোপেন ঝরা, সাধারণ সম্পাদক ভেবুল তন্তবাই, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কর্মসূচির আওতায় বাওয়ানী চা বাগানে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০টি জোড়া বেঞ্চ, শিক্ষকের জন্য একটি টেবিল ও একটি চেয়ার প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ৬০ জন শিক্ষার্থীর হাতে স্কুল ব্যাগ, খাতা ও কলম তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, ইমাম চা বাগানস্থ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে খাতা- কলম সহ ১১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাতা বিতরণ করা হয়। এছাড়া উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়। এর পূর্বে একই প্রকল্পের আওতায় বড় শাখোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০টি টিফিন বক্স ও ২৮টি ছাতা বিতরণ করা হয়।
শিক্ষা উপকরণ বিতরণকালে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, চা বাগান এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের স্কুল দুটি বন্ধ ছিল। সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা কার্যক্রমও বন্ধ ছিল এবং শিক্ষক সংকটসহ নানান কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছিল।
এ অবস্থায় গত বছর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে বিদ্যালয়ে একজন অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়া ও শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থী স্কুলে আসার আগ্রহ বেড়ে যায়।