রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংবিধান কী বলে, ভোটার কারা

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংবিধান কী বলে, ভোটার কারা

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও চলছিল।

 

এরই ধারাবাহিকতায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ অগাস্ট।

 

এরপর আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন কক্ষে।

 

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

 

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যদিও তফসিল ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা সংবিধানে নেই, তবে মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনে ভোটগ্রহণসহ পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার জন্য কমিশন সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে তফসিল অনুমোদন করবে। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারি গেজেটে তফসিল প্রকাশ করবেন। তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ, যাচাই-বাছাইয়ের দিন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ থাকবে। এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

 

কে হতে পারবেন রাষ্ট্রপতি

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স হতে হবে অন্তত ৩৫ বছর এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

 

মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে জাতীয় সংসদের একজন সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সদস্যকে সমর্থক হতে হবে। একজন সংসদ সদস্য একাধিক প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা পড়ার পর নির্বাচন কমিশন তা যাচাই-বাছাই করবে এবং বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।

 

কারা ভোট দেবেন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

 

কীভাবে হবে ভোট

যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদ ভবনে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

 

তবে যাচাই-বাছাই শেষে যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই রিটার্নিং অফিসার তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিন এভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31