সিলেট ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেছেন, ‘প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সরকারকে সতর্ক করতেই আমি বারবার বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরছি। এখন সরকারের উচিত এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা।’
ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিমের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমাদের সময় পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো—
গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়নগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টার এক তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে পথঘাট।এতে সাধারণ যাত্রীরা এক অবর্ণনীয় ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন।এই দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্সে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, আর সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে অনেক প্রবাসী মিস করেন তাঁদের নির্ধারিত উড়োজাহাজ।
এই দুঃখজনক জনদুর্ভোগের প্রেক্ষিতে,জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ (সম্প্রতি কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ক হিসাব দায়িত্বপ্রাপ্ত ) জনাব এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মহোদয় এক জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করেন।উক্ত ভয়াবহ যানজট,রোগীর মৃত্যু,প্রবাসীদের বিমান মিস ও চরম যাত্রী দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে তিনি কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, হাইওয়ে পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে একটি জুম মিটিং আহ্বান করেন।
মাননীয় হুইপ মহোদয়ের পাশে বসে পুরো মিটিংটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আমার হয়েছিল।কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও চরম হতাশার সাথে লক্ষ্য করলাম—এত বড় একটি ঘটনা ও মানুষের অসীম দুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা ছিল না।এমনকি সেতু সংস্কার কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের এসপি কিংবা কুমিল্লার ডিসির মধ্যে আগাম কোনো তথ্য ছিল না।কর্মকর্তা পর্যায়ে এমন চরম সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতাহীনতা সত্যিই উদ্বেগজনক।
পরিস্থিতি দেখে মাননীয় হুইপ মহোদয় চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন।তিনি মন্তব্য করেন, সেতু সংস্কারের আগে আগাম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।সংবাদপত্র, টিভি স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগে থেকে প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
পরবর্তীতে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার কোনো ইতিবাচক মনোভাব আমি দেখতে পাইনি।
আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে,প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে।জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।