সিলেট ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০
জেলা প্রতিনিধিঃঃ
করোনারভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও লকডাউন বিরাজ করছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, ওষুধের দোকান ছাড়া সব বন্ধ। এতে বেশি সমস্যায় পড়েছে দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষরা। এমনই একজন মৌলভীবাজার জেলার এক বৃদ্ধা। খেতেন ভিক্ষাবৃত্তি করে।
মৃত ব্যক্তির বাড়িতে চাল বিতরণ হবে, এমন সংবাদ শুনে চাল পাওয়ার আশায় উপজেলা সদর চন্ডিপুর গ্রাম হতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়েছিলেন বৃদ্ধা জমিলা খাতুন (৬৫)। কিন্তু গিয়ে দেখেন, সেখানে কেউ মারা যাননি। চাল না পেয়ে অতঃপর বিমর্ষ হয়ে বৃদ্ধা বন্ধ এক দোকানের সামনে বসে ছিলেন।
ঘটনাটি আজ শনিবার বেলা ১১টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর বাজারের।
বিষযটি নজরে আসলে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী নিজেই কিনে দিলেন কিছু খাবার। ওই সাংবাদিককে বৃদ্ধা জানান, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড চন্ডিপুর গ্রামে জমিলা খাতুনের বাড়ি। স্বামী মৃত জয়নাল মিয়া। এক সময় সব ছিল। বর্তমানে তিন ছেলে ও স্বামী বেঁচে নেই। তিন মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার। নামতে হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তিতে।
দেশে করোনাভাইরাস দেখা দিলে ভিক্ষার জন্য মানুষের বাড়িতে গেলেও কেউ ভিক্ষা দেয় না। ভিক্ষা করে যা পেতেন তা দিয়েই সংসার চলে। আজ সকালে তিনি মাইকে শোনেন মাধবপুরে একজন মানুষ মারা গেছে। চাল মিলবে এমন আশায় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পৌর এলাকা হতে পায়ে হেঁটে চলে আসেন মাধবপুরে। কিন্তু এখানে এসে দেখেন কেউ মারা যায়নি।
বিমর্ষ অবস্থায় চোখ-মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে একটি বন্ধ দোকানের সামনে বসে ছিলেন। পরে কিছু খাদ্যসামগ্রী সাহায্য নিয়ে আবার হেঁটে নিজ গন্তব্যে ফিরে যান বৃদ্ধা।