সিলেট ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে রোববার তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। বর্তমানে এর যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় এখন যেকোনো দিন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।
এর আগে গত ৯ জুন ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর এই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছিল।
গত ৭ জুন আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
এ ছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দিতে বলা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ থেকে আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।