সিলেট ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় থানা পুলিশের একদিনের ধারাবাহিক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ মোট ১১ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের মানবিক উদ্যোগে উদ্ধার করা হয়েছে এক নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধীকে, যাকে পরবর্তীতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দ্রুত বিচার মামলা নং-৪৬/২৬-এর চার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হাবিবুল্লাহ কাজী, সেলিম মল্লিক, সোহেল কাজী ও দ্বীন ইসলাম মল্লিককে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া খাসেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিআর নং-৩৭/২৩ মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি প্রণয় পান্ডেকে আটক করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে চিতলমারী থানার ০৫ নম্বর মামলার আসামি বাঁধন মৃধাকে ৭৫ গ্রাম গাঁজাসহ এবং ০৭ নম্বর মামলার আসামি ইমন শেখকে ১৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে অপরাধ স্বীকার করায় ইব্রাহীম শেখ, নয়ন ও রুহুল আমিন শেখের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এদিকে পুলিশের একটি মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মোল্লাহাট উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া শেখ সাদী নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের সন্ধান বের করে পুলিশ। পরে তাকে তার বাবা মাহাতাব শেখের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনায় অংশ নেন এসআই এএসএম সাকিব নিয়াজ, এসআই লিটন কুমার বিশ্বাস, এসআই সুজয় কুমার মল্লিক, এসআই আব্দুস সালাম, এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. মহিদুল ইসলাম শেখ এবং এএসআই সজল কুমার রায়সহ চিতলমারী থানার একাধিক পুলিশ সদস্য।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেগম রোকেয়া বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। চিতলমারীকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে আরও জোরালোভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ১০ আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।