বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খাল উদ্ধার অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬

বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খাল উদ্ধার অভিযান শুরু

প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::

বাগেরহাট পৌর শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকারি খাল ও জলাশয় উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ, খনন, বাঁধ অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শহরের আলীয়া মাদরাসা সড়ক সংলগ্ন বালিয়ার খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বাগেরহাটের সম্পাদক এস. কে. হাসিব, বাগেরহাট কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কর্মসূচির আওতায় পৌর শহরের বিভিন্ন সরকারি খাল ও জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সীমানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করে জলাবদ্ধতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, অতীতেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা এবার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সুজন বাগেরহাটের সম্পাদক এস. কে. হাসিব বলেন, “বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার সরকারি খালগুলো দখলমুক্ত ও পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বাগেরহাট সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে থাকব, যাতে কোনোভাবেই এটি বন্ধ না হয়ে যায়।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, “যত্রতত্র ময়লা ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে বাগেরহাট শহরের অনেক সরকারি খাল প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এখনই খালগুলো দখলমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে ভবিষ্যতে এ শহরে বসবাস আরও কঠিন হয়ে পড়বে।”

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, পৌর এলাকার খালগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। কোথায় পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, কোথায় অবৈধ বাঁধ দেওয়া হয়েছে, সেসব চিহ্নিত করা হয়েছে। খাল খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “বাগেরহাট পৌর শহরে মোট আটটি খাল রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে এবং বিভিন্নভাবে দখলের চেষ্টা করছে। আজ যে খাল খনন, পরিচ্ছন্নতা, বাঁধ অপসারণ ও সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে শহরের সব খাল দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি খাল ও জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার প্রশাসনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাগেরহাট পৌর শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ সুগম হবে এবং শহরের পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930