সিলেট ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ::
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হবে তারা।যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকে।
ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে। দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।
সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।
অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।