সিলেট ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে আটক হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে তার সাক্ষাতের এটিই প্রথম প্রকাশ্যে আসা ঘটনা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে জানান, সোমবার রাজধানী নাইপিদোতে আইসিআরসির মিয়ানমার আবাসিক প্রতিনিধি আর্নো দ্য বেক-এর সঙ্গে সু চির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইসিআরসিও এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে তাদের একজন প্রতিনিধি সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে ওই প্রতিনিধির নাম প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে এই সফর পরিচালিত হয়েছে এবং এতে সু চির সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগও ছিল।
আইসিআরসি আরও জানায়, এ ধরনের সফরের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে বার্তা পাঠানোর সুযোগও পান।
স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার মধ্যে বিরল উপস্থিতি
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই তাকে আটক রাখা হয়েছে। এই সময়ে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে। কোনো বিদেশি নেতা বা বিশেষ দূতও এর আগে তার সঙ্গে প্রকাশ্যে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।
সরকার প্রকাশিত চারটি ছবির মধ্যে দুটিতে ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাকে সু চিকে একটি সাধারণ কক্ষের ভেতরে আইসিআরসি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে তাকে নিজের নাম লেখা একটি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। কেকে লেখা ছিল “শুভ জন্মদিন আনটি সু ১৯. ৬. ২০২৬ “।
তবে রয়টার্স ছবিগুলোর স্থান ও তোলার সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
১৮ বছরের সাজা এখনও বহাল
অভ্যুত্থানের পর একাধিক গোপন বিচারের মাধ্যমে সু চিকে দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতিতে উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে সেই সাজা কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে আরও এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর পর বর্তমানে তার ১৮ বছরের সাজা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী দলের একজন সদস্য।
সু চির রাজনৈতিক মিত্ররা বরাবরই দাবি করে আসছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিয়ানমারের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
গত ডিসেম্বর সু চির ছেলে কিম অ্যারিস রয়টার্সকে বলেন, তিনি বহু বছর ধরে মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেননি। মায়ের হৃদ্রোগ, হাড় ও মাড়ির সমস্যার বিষয়ে কেবল বিচ্ছিন্ন ও পরোক্ষ তথ্যই পেয়েছেন। এমনকি, মায়ের মৃত্যুর খবরও হয়তো সময়মতো জানতে পারবেন না এমন আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছে, সু চি “সুস্থ আছেন”। তবে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
গত এপ্রিলে সামরিক-সমর্থিত নির্বাচনের পর, যেখানে সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন, তখন কর্তৃপক্ষ জানায় যে সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত মাসে ব্যাংককে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর থাইল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তার সুস্থ থাকার সরকারি দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়।
তবে নতুন সামরিক-সমর্থিত প্রশাসন এখন পর্যন্ত সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের অনুমতি দিতে অনাগ্রহী। মে মাসে ফিলিপাইনের পক্ষ থেকে আসিয়ানের বিশেষ দূতকে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
মিয়ানমারের স্বাধীনতার স্থপতি জেনারেল অং সানের কন্যা অং সান সু চি এর আগে সামরিক জান্তার শাসনামলে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। ইয়াঙ্গুনের ইনয়া লেকের পাশে নিজের বাড়ির ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া তার ভাষণ একসময় গণতন্ত্র আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।