গণমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: 4:26 PM, September 4, 2026

গণমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ানোর মধ্যে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার খবর আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী গণমাধ্যমগুলোকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী নজিরবিহীন মাত্রায় গোলাবারুদ উৎপাদন করছে এবং তাদের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে।

 

তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী গোলাবারুদ তৈরি করছে ‘আগে কখনো দেখা যায়নি এমন মাত্রায়’ এবং তাদের কাছে ‘আমরা যতটা ব্যবহার করতে পারি, তার চেয়েও অনেক বেশি’ অস্ত্র রয়েছে।

এদিকে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী গণমাধ্যমগুলোরও তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহী আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

 

এর আগেও আগস্টে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তখন ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন।

 

ওই সময় সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, এসব তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের চেষ্টা করা হবে।

 

তবে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর শুধু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

 

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জুলাইয়ের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি অবশিষ্ট রয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক মজুত ব্যবহার হয়ে গেছে।

 

সিএসআইএস আরও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক আক্রমণাত্মক অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল (জেএএসএসএম) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিএসআরএম) রয়েছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

 

সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদে অস্ত্রের ঘাটতি ইরানের চেয়ে আরও উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তির অধিকারী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, ২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্প একাধিক উদ্বেগজনক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

 

গণমাধ্যমের সংবাদে অসন্তুষ্ট হয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় সম্প্রচার নিয়ন্ত্রকদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031