ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, সরাসরি মার্কিন অস্ত্রের আঘাতের ইঙ্গিত

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, সরাসরি মার্কিন অস্ত্রের আঘাতের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের ওই বিস্ফোরণটি অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের পর গোলাবারুদ ছিটকে গিয়ে নয়, বরং সরাসরি মার্কিন অস্ত্রের আঘাতে হয়ে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, কারণ আমরা অবশ্যই এর বিষয়ে জানতে চাই।’

 

রয়টার্সের যাচাই করা ছবি ও ভিডিও চারজন সামরিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা করেছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের ক্ষয়ক্ষতির ধরন সরাসরি কোনো গোলাবারুদের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনজন বিশেষজ্ঞের ধারণা, ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত মার্কিন অস্ত্র ছিল, কোনো লক্ষ্যভ্রষ্ট ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নয়। আরেক বিশেষজ্ঞের মতে, মার্কিন অস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত। তবে তাদের দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।’

 

এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের বিষয়ে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন হামলা, কোনো ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ছিটকে যাওয়া অথবা লক্ষ্যভ্রষ্ট কোনো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত-সবই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ২২ বছর বয়সী এক নারী বৃহস্পতিবার হাসপাতালে মারা গেছেন। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনায় প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক গ্রামের বাইরে নিহতদের জানাজা ও শেষকৃত্যে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহত চারজনের মরদেহের মধ্যে একটি ছোট শিশুর মরদেহও ছিল।

 

শেষকৃত্যের ভিডিওতে দেখা যায়, খেজুরপাতার ছাউনির নিচে পতাকায় মোড়ানো একটি কফিন বহন করা হচ্ছে। শোকাহত মানুষজন ফুলের পাপড়ি ছুড়ে দিচ্ছেন এবং লাউডস্পিকারে বিষণ্ন সুর বাজছে। সামরিক সদস্যদের সারির পাশ দিয়ে কফিন বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ স্থানীয় এক বাসিন্দার বক্তব্য প্রকাশ করে বলেছে, এটি কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, বরং একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। মানুষের আনন্দের অনুষ্ঠান কীভাবে শোকে পরিণত হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এর আগে প্রায় ছয় মাস আগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হওয়ার দাবি করেছিল ইরান। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। তবে পেন্টাগন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে দেয়নি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930