সিলেট ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ::
হ্যাটট্রিকের পর ফুটবলাররা যেমন ম্যাচের বলটি স্মারক হিসেবে নিয়ে যান, তেমনি পাঁচ উইকেট পাওয়ার পর ক্রিকেটারদেরও ম্যাচের বলটি নিজের কাছে রাখার রীতি আছে। কিন্তু একই ইনিংসে দুই বোলার পাঁচটি করে উইকেট নিলে কী হবে? ইংল্যান্ডের পেসার অলি রবিনসন ও জশ টংয়ের সামনে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ক্রিকেট বলটি সমান দুই ভাগে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন দুজনেই পাঁচটি করে উইকেট নেন। টং বলেন, ‘রব্বো বলল, আমরা বলটা মাঝখান থেকে দুই ভাগ করে নিতে পারি। মাঠের কর্মীরা দারুণভাবে সেটি করে দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন ঘটনা আমি এই প্রথম দেখলাম। নিশ্চিতভাবেই বলটির অর্ধেক আমি কোথাও স্মৃতি হিসেবে রেখে দেব।’
পরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পাওয়া বলের অর্ধেকটি দেখান রবিনসন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠ থেকে বের হচ্ছিলাম। জশ বিষয়টি বলল। আমি বললাম, আমরা সত্যিই এমনটা করতে পারি। বেশ দারুণ হবে।’
‘ক্রিকেট বলের অর্ধেক আপনার কাছে খুব বেশি থাকে না। তাই এটি এমন একটি স্মৃতি হবে, যা আমরা কখনো ভুলব না।’
ইংল্যান্ডের দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে জো রুটের শুরুটাও হয়েছে স্বপ্নের মতো। টসে জিতে পাকিস্তানকে মাত্র ১৭১ রানে গুটিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। টং ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট এবং রবিনসন ৫১ রানে পাঁচ উইকেট নেন। দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১১২ রান।
একই টেস্ট ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে স্টিভ হার্মিসন ও মন্টি পানেসার পাঁচটি করে উইকেট নিয়েছিলেন।
হেডিংলিতে হাত ধরাধরি করে মাঠ ছাড়ার সময়ই বল ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন রবিনসন ও টং।
রবিনসন বলেন, ‘দলের ব্যবস্থাপক ওয়েন বেন্টলি বলটি মাঠের কর্মীদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁরা কি এটা করতে পারবেন? পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি সেটি নিয়ে ফিরে এলেন। কাজটি হয়ে গেছে। সত্যিই দারুণ লাগছে।’
রবিনসনের জন্য পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সাফল্য এসেছে আরও বিশেষ একটি সপ্তাহে। কয়েক দিন আগেই স্ত্রী মিয়ার সঙ্গে তাঁদের প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যা ইভা। আগের একটি সম্পর্কের ঘরেও রবিনসনের একটি সন্তান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘লিডসে হোটেলে আসার পর থেকেই ঘুমের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করছি। আরেকটি সন্তান পৃথিবীতে আসা সত্যিই বিশেষ ব্যাপার। সন্তান জন্মের পর তাকে রেখে আপনি যখন মাঠে এসে ভালো খেলেন, তখন আজকের দিনটি আরও মধুর হয়ে ওঠে।’
‘আমি জানি তারা এখানে নেই, কিন্তু পুরো সময়জুড়েই তাদের কথা ভাবছিলাম।’
ইংল্যান্ড দলে ফেরার পরও নিজের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অব্যাহত রেখেছেন ৩২ বছর বয়সী রবিনসন। ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগের কারণে দীর্ঘ সময় দল থেকে বাইরে থাকার পর গ্রীষ্মের শুরুতে আবার তাঁকে দলে ফেরানো হয়।
দুই বছরেরও বেশি সময় পর লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ফিরেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচেই সাতটি উইকেট নিয়ে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখেন রবিনসন। এর মধ্যে ছিল পাঁচ উইকেটের কীর্তিও।
এখন পর্যন্ত ৮৮টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন রবিনসন। তার বোলিং গড় ২১.২৫। ১৯১৪ সালের পর ইংল্যান্ডের কোনো পেসার এর চেয়ে ভালো গড়ে এত বেশি টেস্ট উইকেট নিতে পারেননি।
রবিনসন বলেন, ‘দল থেকে বাইরে থাকার সময় নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি।’
‘এই মুহূর্তে সম্ভবত জীবনের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিজেকে ভালো মনে হচ্ছে। যদিও ছন্দের দিক থেকে আমি যতটা ভালো অবস্থায় থাকতে চাই, এখনো ততটা নেই। উইকেট পাওয়ার পর এমন কথা বলা হয়তো অদ্ভুত শোনায়।’
‘তবে যতক্ষণ মাঠে থাকতে পারি এবং নিজেকে সুস্থ রাখতে পারি, আশা করছি ধীরে ধীরে সেই ছন্দ ফিরে পাব এবং ভালো অবস্থাটা ধরে রাখতে পারব।’