সিলেট ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ::
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন, এই পরাজয়ের জন্য কোনো অজুহাত নেই। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহে ম্যাকেতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের পর অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয়। পুরো ম্যাচেই আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার কামিন্সের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ প্রথম দিনের শুরুতে বোলারদের জন্য কিছুটা সহায়ক থাকা উইকেট পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কামিন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রস্তুতি প্রায় নিখুঁতই ছিল। প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছিল। তাই কোনো অজুহাত নেই। বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে। প্রথম দিনের উইকেটে শুরুতে কিছুটা সহায়তা ছিল। তবে আমাদের আরও বেশি সময় ব্যাটিং করার উপায় খুঁজে বের করা উচিত ছিল। এরপর বল হাতে আমরা তাদের চাপে ফেলতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব বিভাগেই তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তারা খুব ধৈর্যশীল এবং বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল। একবার আমরা পিছিয়ে পড়ার পর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন হয়ে যায়।’
অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ড দুই ইনিংসে করেন ২৩ ও শূন্য রান। অন্যদিকে মার্নাস লাবুশেন দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে দুজনের জায়গা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
দুই টেস্টের জন্য একই দল ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলে পরিবর্তন আসতে পারে কি না, জানতে চাইলে কামিন্স বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচের পর পরের ম্যাচের জন্য দলের সমন্বয় ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে আমরা সবসময়ই ভাবি। তবে ম্যাচটি মাত্র শেষ হলো। তাই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আমরা সাধারণত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারি। তাই ব্যাটাররা এবং দলের প্রতিটি বিভাগ একসঙ্গে বসে এই ম্যাচ নিয়ে ভালোভাবে ভাববে এবং কোথায় উন্নতি করা যায় তা খুঁজে বের করবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দুটি বড় প্রাপ্তি ছিলেন জশ হ্যাজলউড ও ক্যামেরন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হ্যাজেলউড। অন্যদিকে চাপে থাকা গ্রিন দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট শতক তুলে নেন।
হ্যাজেলউডের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, ‘গত কয়েক বছর চোটের কারণে জশ খুব একটা ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারেনি। কিন্তু সে কঠোর পরিশ্রমীদের একজন। এমন একটি উইকেটে, যেখানে পেসারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল না, সেখানে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে সে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছে। সে অসাধারণ ছিল।’
গ্রিনকে নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘এই ইনিংসে গ্রিনের ব্যাটিংয়ের গতি দেখিয়েছে সে কতটা ভালো খেলোয়াড়। শুধু তার সঙ্গে আরও দু-একজনকে কিছুক্ষণ টিকে থাকতে হতো। তবে সে দুর্দান্ত খেলেছে।’
চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং অবশ্য মনে করেছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলে পরিবর্তন আনতেই হবে।
চ্যানেল সেভেনে পন্টিং বলেন, ‘আমার মনে হয় পরিবর্তন আনাটা অবশ্যম্ভাবী। গত মৌসুমের শেষেও আমি বলেছিলাম, দলের পুনর্গঠন শুরু করার এটাই আদর্শ সময়। কারণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স সে কথাই বলছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পরিবর্তন আনার পক্ষপাতী নই। অধিনায়ক কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে আমি সবসময় দলটাকে একসঙ্গে রাখতে চেয়েছি। তাই কাউকে বাদ দেওয়ার কথা বলার আগে পরিস্থিতি খুব খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়।’
পন্টিংয়ের ভাষায়, ‘তবে এখানে আসার আগেই যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে দলের পুনর্গঠন শুরু করলে অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি কিছু হারাবে না। হয়তো নতুন কোনো উদ্বোধনী ব্যাটারকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, কিংবা তিন নম্বরে নতুন কাউকে খেলানো যেতে পারে।’