সিলেট ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদের মোহনা থেকে একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ বাংলাদেশি ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে গত ২১ দিনে মোট ৪৬ জনকে নিয়ে গেল তারা।
আজ মঙ্গলবার সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার পথে বেলা ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় ছয়জনকে অপহরণ করা হয়। তাদের মধ্যে মাঝি আব্দুল হাফেজের নাম জানা গেলেও বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া ঘাট ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম।
ট্রলার মালিক ও জেলেদের দাবি, টানা চার দিনে ৩৯ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। আর চলতি আগস্ট মাসের ৫ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত ২১ দিনে সাতটি ট্রলার-নৌকাসহ ৪৬ জন জেলেকে ধরে নেওয়া হয়েছে। তাদের কাউকে এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথের শাহপরীর দ্বীপের পূর্ব-দক্ষিণে নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের মোহনাসংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া ঘাট ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ট্রলারটির মালিক টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম। নৌযানটিতে ছয়জন মাঝিমাল্লা ছিলেন।
ওই ট্রলারের মাঝি আব্দুল হাফেজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, সাগরে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের পূর্ব-দক্ষিণে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে জেলেদের ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাদের আটক করে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর থেকে ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু প্রতি দিন আরাকান আর্মির সদস্যরা বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরারপথে বাংলাদেশি ট্রলারসহ জেলেদের অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। গত চার দিনে পাঁচটি ট্রলারসহ ৩৯ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছেন বলে ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে আজ এই পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরাকান আর্মি ২৫০ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলে এবং ২৭টি ট্রলার-নৌকা ফেরত আনা হয়েছে।