সিলেট ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
রিমান্ডে দিলে যেকোনো সময় আমার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, তাই রিমান্ডে না দিতে বিচারকের কাছে অনুরোধ করলেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। জুলাই আন্দোলনের গুলশান থানায় করা কামাল হোসেন সবুজ হত্যা মামলায় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে নজরুল ইসলাম মজুমদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিকালে নজরুলকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে বলেন, ‘হাসিনা একদিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠেননি। ১৭ বছর ধরে নজরুল ইসলাম মজুমদারের মত লোকেরা অর্থ দিয়ে, মদদ দিয়ে তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছে। আন্দোলনকারীরা ভোটাধিকার চেয়েছিল। বিনিময়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাদের মধ্যে সবুজও একজন। তাই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’
নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী সাদেকুর রহমান তমাল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদনে বলেন, ‘এজাহারে তার নাম নাই। সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর আন্দোলনের সময় তিনি দেশেই ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। অর্থ সহায়তা কীভাবে দিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি অসুস্থ, বয়স্ক একজন মানুষ। তার রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি।’
এরপর আদালতের কাছে এক মিনিট কথা বলার অনুমতি নিয়ে আসানি নজরুল বলেন,‘আমি হার্টের রোগী। গত সপ্তাহে কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ি। টেস্ট করে হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। আমার রাইট বান্ডেল পুরো ব্লক। এ অবস্থায় আবার রিমান্ড দিলে অসুস্থ হয়ে পড়ব। গত ১৫ মাস ধরে জেলে আছি। অনেক মামলায় রিমান্ড হয়েছে। রিমান্ডে আপত্তি নেই। তবে রিমান্ডে নিলে যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। জেলেগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রার্থনা করছি।’
শুনানি নিয়ে আদালত থেকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গুলশানের বাটার গলিতে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ জুলাই আওয়ামী লীগের ১০০-১৫০ নেতাকর্মীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়।