মোরেলগঞ্জে পতিত জমিতে ৩০ বিঘার মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদে রঙিন স্বপ্ন

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

মোরেলগঞ্জে পতিত জমিতে ৩০ বিঘার মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদে রঙিন স্বপ্ন

প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলবর্তী খাদ্যশস্য ভান্ডারখ্যাত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পতিত জমিতে এখন রঙিন স্বপ্ন। ৩ থেকে ৩০ বিঘার মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। দিগন্তজোড়া হলুদের বিস্তার। ফসলি মাঠের চারপাশ ভরে উঠেছে হলুদের ঘ্রাণ আর সৌরভে। গার হলুদ বর্ণের এ ফুলে মৌমাছিরা গুনগুন করে মধু আহরণ করছে। চাষিরা বলছেন, বিঘা প্রতি ৫ মণ ঘরে তুলতে পারবেন সরিষা ফসল।

 

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উত্তর কুমারিয়াজোলা গ্রাম। দেশি আমন ধান কাটার পরে পতিত জমি পড়ে থাকতো। সেখানে আজ তৈল ফসল সরিষা চাষ করে ভালো ফলনে অধিক লাভবানের স্বপ্ন বুনছেন একাধিক কৃষক। ২০২৫ সালে প্রথমে ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন ৭/৮ জন কৃষক। চলতি বছরে ৩৫ জন কৃষক ৩০ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। অধিক ফলন হওয়ায় কৃষকেরা রঙিন স্বপ্ন বুনছেন।

 

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে বারি সরিষা ১৪, ১৮, ২০ এবং বিনা সরিষা-৯, ১১ প্রজাতের চাষাবাদ করেছে কৃষক। গত বছরের চেয়ে ১০ হেক্টর সরিষা চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বলইবুনিয়া, পঞ্চকরণ, নিশানাবড়িয়া, দৈবজ্ঞহাটী, তেলিগাতি, বনগ্রাম, হোগলাপাশা ও হোগলাবুনিয়ায় সরিষা আবাদ বৃদ্ধি হয়েছে।

 

উত্তর কুমারিয়াজোলা গ্রামের কৃষক অনিক তরফদার ৩ বিঘা, কৃষাণী শ্যামলী রানী হালদার ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন, প্রদেশ মাঝি ৪ বিঘা, পাবেল রায় ১ বিঘা, বিভূতি ভূষণ ১ বিঘা, বাদল তরফদার ১ বিঘা, প্রসান্ত বাড়ই ১ বিঘা, নিত্যনান্দ্র ৫ বিঘা, পাবেল রায় ২ বিঘা এ রকম একাধিক কৃষক সরিষা চাষ করে ভালো পাওয়ায় তারা বলেন, বিঘা প্রতি তাদের ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা শ্রমিক মজুরি, সার কীটনাশক, সেচ খরচ হয়েছে।

 

 

ভালো ফলনের কারণে প্রতি বিঘায় ৫ মণ সরিষা তুলতে পারবেন। যার বাজার দর রয়েছে ১৫ হাজার টাকা প্রতি মণ। তাদের মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ অপরুপ দৃশ্য দেখতে পাশর্^বর্তী গ্রামের মানুষ সকালে ও বিকেলে ভিড় জমাচ্ছেন। এ ভালো ফলনের ফলে আগামি বছর কৃষকেরা সরিষা চাষাবাদে আরও আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা করছেন।

 

এ বিষয়ে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দিপংকর সোমাদ্দার বলেন, খারইখালী ব্লকে উত্তর কুমারিয়াজোলা গ্রামে গত বছর এখানে মাত্র ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন। কিছুটা ভালো ফলন হাওয়া এবারে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের নিয়ে সভা করে ২০ জন কৃষককে প্রণোদনা আওতায় এনে বিনা-১১, ১৪ ও ১৮ ৩ প্রজাতের সরিষা ৩০ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন হলুদ আর হলুদ। পতিত জমিতে কৃষকরা অধিক লাভবানের কারণে আগামি বছর রবি মৌসুমে তৈল ফসলে চাষাবাদ আরও বৃদ্ধি হবে।

 

এ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সঠিক সময়ে পরামর্শের ফলে কৃষক ভালো ফলন ফলাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে তদারকির জন্য আজকের এ সফলতা। আশা করছি তৈল ফসলের আবাদ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031