স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

রাজধানীর হাজারীবাগে স্বামী সোহেল হাওলাদার ওরফে সোহেল হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্ত্রী শিল্পী বেগমসহ দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার ১০ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

 

অপর দণ্ডিত ব্যক্তি হলেন শিল্পী বেগমের ছেলের বন্ধু ফাহিম পাঠান।

 

 

‎রায় ঘোষণার সময় ফাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শিল্পী বেগম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

 

‎২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের মধ্য বসিলা এলাকা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত ও ক্ষতচিহ্ন সহকারে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

 

‎মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই শিল্পী বেগম ও ফাহিম পাঠানকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক হুমায়ন কবির। শিল্পীর ছেলে সিজান (১৭) শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়। যার বিচার শিশু আদালতে চলছে।

 

 

‎চার্জশিটে বলা হয় , শিল্পীর তৃতীয় স্বামী সোহেল। তারা হাজারীবাগে থাকতেন। সিজানও তার মায়ের সাথে থাকত। সোহেলকে মামা বলে ডাকত সিজান। তবে সোহেল তাকে দেখতে পারতেন না, মাঝে মাঝে মারধর করতেন। শিল্পীকেও মারতেন সোহেল। এ কারণে সিজান তার বাবার কাছে বাগেরহাট চলে যায়। সরকারি চাকরি দিবে বলে সোহেল সিজানের বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেয়। তে চাকরি দেন না।

 

 

২০২০ সালের ২০ জুলাই সোহেল সিজানকে ফোন করে বাগেরহাট মাজারে দেখা করেন। তাকে ঢাকায় আসতে বলে এবং চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। ৩ সেপ্টেম্বর সিজান ঢাকায় আসেন। চাকরি ও টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। ১০ সেপ্টেম্বর টাকার বিষয় নিয়ে শিল্পীর সঙ্গে সোহেলের ঝগড়া হয়। সোহেল শিল্পীকে মারধর করেন। রাতে বাসায় ফিরে তা টের পান সিজান। সিজান বিষয়টি তার বন্ধু ফাহিমকেও জানায়। সোহেলকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে তারা।

 

 

১৩ সেপ্টেম্বর শিল্পী শরবতের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিজান ও ফাহিম বাসায় এসে শিল্পীকে বাসা থেকে চলে যেতে বলে। বলে, সে থাকলে কোনো কাজ হবে না। পরে শিল্পী তার বোনের বাসায় মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিং এলাকায় চলে যান। এরপর সিজান ও ফাহিম সোহেলের দুই পা বেঁধে, মুখ গামছা দিয়ে বাঁধে। মুখ বালিশ দিয়ে চেপে ধরে। পরে ছুরি দিয়ে গলাকেটে সোহেলকে হত্যা করে।

 

 

‎২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শিল্পী বেগম ও ফাহিমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

Spread the love