বাগেরহাটে স্কুল গেটের সামনে বাঁশের হাট, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও পথচারী

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

বাগেরহাটে স্কুল গেটের সামনে বাঁশের হাট, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও পথচারী

প্রতিনিধি / বাগেরহাট :: 

 

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এবং আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার বাঁশ স্তূপ করে বিক্রি করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর অপরিকল্পিতভাবে ভ্যান, নসিমন ও ট্রাকে বাঁশ লোড-আনলোড করায় বিদ্যালয়গামী শিশু শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সড়কের পাশে ও ওপর বাঁশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার ফলে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে সবজি মৌসুমের শুরুতে চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ব্রহ্মগাতি, দুর্গাপুর এবং সন্তোষপুর ইউনিয়নের দড়িউমাজুড়সহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের দুই পাশে বাঁশের অস্থায়ী বাজার গড়ে ওঠে। সেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বাঁশ কেনাবেচা হয়। চলতি বছর ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনেও নতুন করে বাঁশের স্তূপ রাখা হয়েছে। ফলে দিন-রাত ভ্যান, নসিমন ও ট্রাকে বাঁশ লোড-আনলোডের কাজ চলায় সড়কে যানজট লেগেই থাকছে। বিশেষ করে স্কুল চলাকালীন সময়ে গেটের সামনে বাঁশ ওঠানামার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিসান শেখ ও স্বর্ণা ফরাজী জানায়, তাদের স্কুলটি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। স্কুল গেটের সামনে নিয়মিত বাঁশ লোড-আনলোড করায় রাস্তা পারাপারের সময় তারা আতঙ্কে থাকে।

 

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সোহেল সুলতান ও মো. বশির ফরাজী বলেন, “স্কুল গেটের সামনে এভাবে বাঁশ লোড-আনলোড চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি।”

 

ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামেলেন্দু গোলদার বলেন, “স্কুল গেটের সামনে এভাবে বাঁশ বিক্রি ও লোড-আনলোড করায় শিশু শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।”

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশ বাণিজ্য পরিচালনার পরিবর্তে কোনো নির্দিষ্ট খোলা মাঠ বা নির্ধারিত স্থানে বাঁশের হাট বসানো উচিত। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কেউ বিষয়টি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930