১৫ বছর ধরে ঝুঁলে আছে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা বিচার কার্যক্রম

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

১৫ বছর ধরে ঝুঁলে আছে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা বিচার কার্যক্রম
Spread the love

২১ Views

স্টাফ রির্পোটারঃ

 

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সুষ্ঠু বিচারের জন্য আজও প্রহর গুনছেন  স্বজনরা। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন কিবরিয়াসহ পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আহত হয়েছিলেন অন্তত ৭০ জন।

 

এ হামলার পর দায়ের করা দুটি মামলার একটির সাক্ষ্যগ্রহণ এতো বছরেও সম্পন্ন হয়নি। আর একটি মামলায় এখনও গঠিত হয়নি অভিযোগপত্র। মামলার এ দীর্ঘসূত্রিতায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশা হারিয়েছেন কিবরিয়াসহ অন্যান্য নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও এ মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়নি বলেও দাবি করেছেন কিবরিয়া পরিবারের সদস্যরা।

কিবরিয়ার ছেলে ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর দুই বছর বিএনপি, দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অথচ এখন পর্যন্ত এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। আর মিথ্যা ও সীমিত তদন্তের ভিত্তিতে করা অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি করে বিচার আমরা চাই না।”তিনি আরোও বলেন, “আমরা দুটি প্রশ্নের উত্তর চাই। এ হত্যাকাণ্ডের আসল মদদদাতা কে এবং এ সকল গ্রেনেডের উৎস কী? কিন্তু সবকটি চার্জশিটেই এই দুটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।”আমাদের ধারণা আসল খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে আমার মায়ের মৃত্যুর আগে দেওয়া দ্বিতীয় অভিযোগপত্র মেনে নিতে হবিগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও এ মামলার বাদী আব্দুল মজিদ খান আমার মাকে চাপ দেন। পরে আবার এ অভিযোগপত্র পরিবর্তন করে তৃতীয় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, যাতে থাকা আসামিদের নাম আগেরটির সঙ্গে মিলে না।”

 

“এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে আমরা আর সুষ্ঠু তদন্ত আশা করছি না। ভবিষ্যতে অন্য সরকার, সে যেকোনো দলেরই আসুক, আমরা আশা করবো সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচারের”, বলেন তিনি।

রেজা কিবরিয়া বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, যারা আমার বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত আমি তাদের বিচার এবং শাস্তি চাই।২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে নেমে বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে এলে তাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ হামলায় কিবরিয়া ছাড়াও নিহত হন তার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।

 

ওই রাতেই হবিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন তৎকালীন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার একটিতে তিন দফা তদন্ত শেষে চার্জশিট গঠনের মাধ্যমে সিলেট দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৫ সালে। এরপর থেকে বারবার পিছিয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

সিলেট দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, “এ হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা দেশের প্রায় সবকয়টি জেলাতেই বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়ায়, এক জেলা থেকে তাদের অন্য জেলায় প্রতিনিয়ত যেতে হয়। এ কারণে সবসময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত হতে পারেন না। এছাড়াও অসুস্থ্যতাসহ নানা কারণে জেলে থাকা আসামিদের উপস্থিত করা যায় না। ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে সাক্ষ্যগ্রহণ।”তিনি আরেও জানান, “এখন পর্যন্ত এ মামলার ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ৩২ আসামির মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১০ জন আসামি হাজতে, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১২ জন আসামি জামিনে, আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরীসহ বাকি ৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি।”

সব আসামিদের আদালতে উপস্থিত করতে না পারায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা অপর মামলার অভিযোগপত্র এখনও গঠন করা যায়নি বলেও জানান এ কৌঁসুলি। এদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও হবিগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কিবরিয়া পরিবারের সদস্য, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ সময় তারা ‘শান্তির স্বপক্ষে নীলিমা’ ব্যানারে শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।

এলবিএন/২৭-জ/১১/এফ-০১


Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Follow us

আর্কাইভ

May 2022
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031