সিলেট ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২১
প্রতিনিধি/ওসমানীনগরঃঃ
আরবি বর্ষের মহরম মাসের ১০ তারিখ প্রবিত্র আশুরা হিসেবে পরিচিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র, হজরত ইমাম হোসাইন (রা:) আশুরার দিনে ইসলামকে প্রতিষ্টিত করতে গিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইয়াজিদ সৈন্য বাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন।
পবিত্র আশুরাকে ঘিরে বিশ্বের মুসলমানরা নিজনিজ মতাদর্শ অনুসারে রোজা,নফল এবাদত,শোক জারিসহ নানা আনুষ্ঠিকতার মাধ্যমে মহররম মাসের প্রথম ১০দিন শোক পালন করে কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস জনসম্মুখে তুলে ধরেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় যথাযোগ্য মযার্দায় আশুরার আনুষ্ঠানিকতা ১০ আগস্ট থেকে পালিত হচ্ছে। এলাকার পাক-পাঞ্জাতনের মোকামগুলো বিভিন্ন সাজে সাজিয়েছেন ভক্তরা।
শোকের পাশাপাশি চারিদিকে দেখা যাচ্ছে চাকচিক্যতা। উপজেলায় যে কয়টি পাক-পাঞ্জাতনের মোকাম রয়েছে এরমধ্যে অন্যতম হলো- গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাহ্মণগ্রামস্থ পীর ওয়াছিদ আলীর বাড়িতে পাক-পাঞ্জাতনের মোকাম। যেটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পীর মজনু মিয়া।
পাশ্ববর্তী এওলাতৈল গ্রামে পরিবহন নেতা শাহ্ নূর রহমান শানুরের বাড়িতে পাক-পাঞ্জাতনের মোকাম। এছাড়া মোতিয়ারগাঁও নিজ করনসী পূর্বপাড়া, উমরপুর ইউনিয়নের বড়ইসবপুর পীরেরবাড়ি, সাদিপুর ইউনিয়নের গজিয়া, ইব্রাহিমপুর, সৈয়দপুর ও ধরখা গ্রামে পাক-পাঞ্জাতনের মোকামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভক্তরা জারির আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন।
করোনাকালীন সময়ে পাক-পাঞ্জাতনের মোকামগুলোতে এবার লোকজনের উপস্থিতি সীমিত হলেও পশ্চিম ব্রাহ্মণ গ্রাম ও এওলাতৈল গ্রামের পাক-পাঞ্জাতনের মোকামের তত্ত্বাবধায়করা আগত ভক্তবৃন্দের নিয়ে ‘আহলে বয়াতের’ উপর আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- কারবালার প্রান্তরের সেই শোকাহত করুণ স্মৃতিগুলো ভক্তদের সামনে বর্ণনা করছেন ব্রাহ্মণগ্রাম পাক-পাঞ্জাতনের মোকামের তত্ত্বাবধায়ক পীর মজনু মিয়া ও এওলাতৈল গ্রামের শাহ নূর রহমান শানুর।
মোকামগুলোতে ভক্তদের ‘হায় হাসান, হায় হোসাইন’ শোক জারির ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। এওলাতৈল গ্রামের পাক-পাঞ্জাতনের মোকামে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতায় ইসলাম উদ্দিনসহ গ্রামের লোকজন রয়েছেন বলে জানা গেছে ।
শাহ্ নূর রহমান শানুর বলেন,মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা) তাঁর বংশধরদের ইতিহাস ও দিকনির্দেশনা অনুস্মরণ করেই আমরা যুগযুগ ধরে শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করে আসছি। এতে কোনো মুসলমানের দ্বিমত থাকার কথা নয়। নবী পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে নিঃসংকোচে হত্যা করা সবই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনা সত্য-সুন্দর প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী চেতনাকে সমুজ্জ্বল করে রেখেছে,কারবালার শহীদানের স্মৃতি যুগ যুগ ধরে মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চিরদিন প্রেরণা জুগিয়ে আসবে।
পশ্চিম ব্রাহ্মণগ্রামস্থ পাক-পাঞ্জাতনের মোকামের তত্ত্বাবধায়ক পীর মজনু মিয়া বলেন, ইসলাম ধর্মের নির্দেশনা অনুযায়ী কারবালার প্রান্তরে সকল শহীদের আত্মত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে আসছি। আমাদের পূর্ব পুরুষসহ সারা বিশ্বের অগণিত মুসলমান এর তাৎপর্য পালন করে আসছেন। ইসলামের প্রচারে নবী করিম (সা) এর দৌহিত্রদের প্রাণ বিষর্জন ইতিহাস নিয়ে শোকাহত না হয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো প্রকৃত মুসলমানের কাজ নয়। বরং সকল মুসলমানদের উচিৎ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যের মাধ্যমে নবী করিম (সা:) সহ তার দৌহিত্রদের নির্মম ইতিহাস নিজনিজ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকতায় উদ্বুদ্ধ করে শোক পালন করা। কোনো প্রকার বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে শোকের দিনগুলোকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার আহবান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আশুরার বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি হবে।