প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি, সাব-রেজিস্ট্রারে “খাস কামড়ায়” হট্টগোল-উত্তেজনা

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৫

প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি, সাব-রেজিস্ট্রারে “খাস কামড়ায়” হট্টগোল-উত্তেজনা

প্রতিনিধি/ওসমানীনগর::
খাস কামড়ায় ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উটেছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি বালাগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত হলেও (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন ওসমানীনগর সাব রেজিস্ট্রি অফিস কার্যালয়ে।

 

 

প্রকাশ্যে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনাটি গত ৩০ জুন সাব-রেজিস্ট্রারের বিশেষ কক্ষ(খাস কামড়ায়) ঘটলেও ২ জুলাই অফিস খুলার পর থেকে উপজেলা রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সজুড়ে আলোচনায় আসে এই ঘটনা। এক দলিলে ৮০ হাজার টাকা প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠায় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওসমানীনগর উপজেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত কোনো সাব রেজিস্ট্রার না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোশারফ হোসেন ওসমানীনগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন ও প্রকৃত বাজারমূল্য কম দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করে কোটি-কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও এবার ঘটেছে সাব রেজিস্ট্রারকে চাহিদা মতো ঘুষ না দেওয়ার ফলে দলিল রেজিস্ট্রি না করার ঘটনা।

 

উপজেলার উসমানপুর গ্রামের(বর্তমান)সিলেট ভার্তখলা স্বর্নালী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুহিব এহতেশাম। তিনি ৮ লাখ ২৪ হাজার টাকায় নিজের ১১ শতক বাড়ী বিক্রি করেন একই গ্রামের মৃত আকলিছ মিয়ার পুত্র শাহীন মিয়ার কাছে। গেল মাসের ৩০ জুন দেড়টায় শাহীন মিয়া রেজিষ্ট্রারি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রিারি করার জন্য পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দেওয়ার পর অফিসে অতিরিক্ত আরো ২ পার্সেন্ট ঘুষ প্রদান করে দলিল রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থিত হন উপজেলার তাজপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে। শাহীন মিয়ার দলিলটি সাব রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন এজলাস কক্ষে পৌছার পর তিনি পাই-পাই করে দলিলটি যাচাইকরণ করে কোন ত্রুটি পাননি। দীর্ঘ যাচাইকরণের এক পর্যায়ে দলিল রেজিস্ট্রিতে অনিহা প্রকাশ করেন সাব রেজিস্ট্রার। এতে শাহীন মিয়া ও তার মনোনীত মুহরীর দলিল রেজিস্ট্রি না করার কারণ জানতে চাইলে তাদের “খাস কামড়ায়” যাওয়ার আহ্বান করেন তিনি।“খাস কামড়ায়”যাওয়ার পর অফিসের ২ পার্সেন্টসহ তাকে অতিরিক্ত ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার বায়না ধরেন। অবশেষে দলিল রেজিস্ট্রি পক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন তারা। তাতেও সাব রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রিতে রাজি না হলে“খাস কামড়ায়”উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষ মারমুখী ভূমিকায় চলে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্তিতি শান্ত করলেও প্রায় ২ দিন আগের এ ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর উপজেলা রেজিস্ট্রি কমটেপ্লক্সজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

 

সাবরেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন ওসমানীনগরে দায়িত্ব পালণকালে প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন ও দলিল লেখকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। জনভোগান্তি রোধে অবিলম্বে এ সাবরেজিস্ট্রারের অপসারণ ও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

দলিল রেজিস্ট্রি পক্ষের মনোনীত (মুহরীর) মো: মকবুল হোসেন জানান,দলিলে কোন ত্রুটি না থাকার পরও সাবরেজিস্ট্রার ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দর কষাকষির পর দলিল রেজিস্ট্রিপক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি ১ পয়সাও কম হবে না বলে অনড় থাকলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি নিজেই পুলিশে কল দেন। পুলিশের সামনেই ঘুষের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। কাজের স্বার্থে বিভিন্ন সময় তিনি নিজে সাব রেজিস্ট্রারকে অর্ধকোটি টাকার উপরে ঘুষ দেওয়ার দাবি করেন মো: মকবুল হোসেন।

 

জমি ক্রয়কারী শাহিন মিয়া বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। আগামী সোমবার দলিল রেজিস্ট্রি করা হবে।
এবিষয়ে সাবরেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন ব্যক্তিগত মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও ফিরতি জওয়াব না দিয়ে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান।

 

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্য মো: মোনায়েম মিয়া বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে একটি পক্ষের উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানেই বিষয়টি সমাধান হলে কেউ আর অভিযোগ দেয়নি। বিস্তারিত সাব-রেজিস্ট্ররের কাছে জানতে পরামর্শ দেন।

 

জেলা রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম বলেন, সরকারী ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোন টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত ঘুষ প্রহণের দাবিটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930