সিলেট |
প্রকাশিত: 9:41 PM, October 22, 2026
প্রতিনিধি/ওসমানীনগরঃঃ
সিলেটের ওসমানীনগরে জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই প্রবাসী ভাইয়ের বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এ ঘটনায় আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা জারির পরও বিরোধপূর্ণ বাড়িতে আগের মতোই বসবাস ও দখল অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চন্ডিতিয়র (কাজীবাড়ি) গ্রামের মৃত মদরিস আলীর চার ছেলে হলেন মৃত মসওয়্যারুল ইসলাম, মৃত সিরাজুল ইসলাম, মো. মকবুল আলী ও মো. মোফাজ্জল আলী। তাদের মধ্যে সৎ মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই ভাই মারা গেছেন এবং আপন দুই ভাই জীবিত রয়েছেন। তাদের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতে। এ ঘটনায় গত মার্চে সিলেটের দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব (বাটোয়ারা) মামলা করেন মকবুল আলী। মামলা নম্বর ৯৪/২০২৬। গত ২৮ জুলাই আদালত বিবাদীপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। জবাব না পাওয়ায় সম্পত্তি দখল ও বাড়ির প্রকৃতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় বাদীপক্ষ পুনরায় আবেদন করেন। ৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এর পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। গত ১২ অক্টোবর আদালতের জারিকারক মো. শফিক মিয়া বিরোধপূর্ণ বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে বিবাদীর সাথে টেলিফোনে আলাপ করে রাজমিস্ত্রীর টিকাদার আনছার মিয়া এসে জারীকৃত আদালতের আদেশ গ্রহন করেন। পরদিন ১৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ওসমানীনগর থানার সেকেন্ড অফিসারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে ঘটনাস্থলে গেলে বিরোধপূর্ণ জায়গায় মোফাজ্জল আলীর পক্ষের লোকজনের দখল ও বসবাসের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
প্রবাসী মো. মকবুল আলীর অভিযোগ, তার দুই সৎ ভাই ও তিনি প্রবাসে থাকার সুযোগে আপন ছোট ভাই মো. মোফাজ্জল আলী জমি-বাড়িসহ তার নিজস্ব সম্পত্তি বণ্টন না করে এককভাবে ভোগদখলে রেখেছেন। বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের নির্দেশনার পরও যদি বসবাস ও দখল অব্যাহত থাকে, তাহলে আদেশের কার্যকারিতা কোথায়? আমি আমার সম্পত্তির ন্যায়সংগত অধিকার ফিরে পেতে চাই।
মো. মোফাজ্জল আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বাটোয়ারার পর আমি নিজের সম্পত্তিতেই অবস্থান করছি। আমাকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়ে এখন তারা আত্মীয় স্বজনের যোগসাজশ করে আমাকে দখলবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন জানান,আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনার পর বিরোধপূর্ণ বাড়ি ও জমির কোনো পরিবর্তন করা বা সেখানে নতুন করে বসবাসের সুযোগ নেই। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তি যে অবস্থায় রয়েছে, সে অবস্থায়ই রাখতে হবে।