এম এ কাদির, বালাগঞ্জঃঃ
সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ফতুরখাড়া সেতুর পাশে পরিত্যক্ত বেইলি সেতুর সংযোগ সড়ক কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘জন জেবি’ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে।
এস্কেভেটর দিয়ে সড়ক ও সেতুর আশপাশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় সংযোগ সড়কসহ আশপাশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুরখাড়া সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বড়ভাঙা সেতুর নির্মাণকাজের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কাজের জন্য ফতুরখাড়ার পুরোনো বেইলি সেতুর সংযোগ সড়ক কেটে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি ওই মাটি দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটার ফলে সড়কের পাশের মাটির স্তর দুর্বল হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও মাটি সরে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফতুরখাড়া সেতুর সংযোগ সড়ক ও আশপাশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের অভিযোগ, সওজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জন জেবি’র প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম বলেন, মাটিগুলো আমার। আমি নিয়ে যাব, কোথায় রাখব, সেটা আমার বিষয়। সড়ক কেটে বড়ভাঙায় মাটি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ মাটি অপসারণ করে নিরাপদ দূরত্বে রাখার কথা বলেছে। বড়ভাঙাকে নিরাপদ মনে হওয়ায় সেখানে মাটি নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুনিম বলেন, এভাবে সড়ক কেটে মাটি নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকেও তিনি যোগাযোগ করছেন, যাতে দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ করা হয়।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেরিনা দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মাটি কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়ক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সিলেট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, সড়ক কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানেন না মাটি কাটার অনুমতি ঠিকাদরী প্রতিস্টানকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।