শবে বরাতে বিশেষ নামাজ ও রোজা, কী বলে ইসলাম?

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

শবে বরাতে বিশেষ নামাজ ও রোজা, কী বলে ইসলাম?

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

শাবান মাসের ১৫ তারিখকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের একটি অংশ বিশেষ নামাজ, নফল রোজা ও অতিরিক্ত ইবাদতে মনোযোগী হয়ে থাকেন। তবে এ ধরনের আমল ইসলামে কতটা সমর্থিত—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

 

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে সহিহ সূত্রে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত বা দিনের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ, নির্দিষ্ট রোজা কিংবা আলাদা ইবাদতের নির্দেশনা প্রমাণিত হয়নি। আলেমদের মতে, শবে বরাতকে কেন্দ্র করে যেভাবে কিছু নির্দিষ্ট আমলকে সুন্নত বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ হিসেবে প্রচার করা হয়, তার পক্ষে শক্ত দলিল পাওয়া যায় না।

 

 

তবে শাবান মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের অধিকাংশ দিন রোজা রাখতেন।

 

এ প্রসঙ্গে হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শাবান মাসে এত বেশি রোজা রাখার কারণ কী। উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এটি এমন একটি মাস, যার প্রতি মানুষ সাধারণত উদাসীন থাকে। এটি রজব ও রমজানের মাঝখানে অবস্থিত। এই মাসেই মানুষের সব আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমি চাই, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ হোক, যখন আমি রোজাদার থাকি।’

 

 

এই হাদিসের আলোকে আলেমরা বলেন, শাবান মাসে যতটা সম্ভব বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম। তবে পুরো মাস টানা রোজা রাখা শরিয়তসম্মত নয়।

 

 

এ ছাড়া আলেমরা এ মাসে বেশি বেশি দোয়া করা, সুস্থতা কামনা করা এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর ও রমজানের রোজা ও ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক চাওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

 

 

শাবান মাসের ১৫ তারিখকে ঘিরে আলাদা কোনো বিশেষ নামাজ বা রোজা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত না হলেও, অনেকেই এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় সময় কাটান। একই সঙ্গে ১৪ শাবান দিবাগত রাতের ইবাদতের পরের দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখা যেতে পারে।

 

 

হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আবু যার! যখন তুমি মাসে তিন দিন রোজা রাখবে, তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, মিশকাত)

 

 

আলেমরা আরও জানান, শবে বরাতে নফল নামাজ পড়ার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা নিয়ত নেই। অন্যান্য নফল নামাজ যেভাবে পড়া হয়, সেভাবেই আদায় করতে হবে। এ রাতের জন্য আলাদা কোনো নামাজের পদ্ধতি বা নিয়ত নির্ধারণ করলে তা বিদয়াত হিসেবে গণ্য হবে, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বর্ণনা করেননি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031