সিলেটে বেড়েছে হানি ট্র্যাপের কালো গ্রাস: বেপরোয়া দুই মহিলা

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২৬

সিলেটে বেড়েছে হানি ট্র্যাপের কালো গ্রাস: বেপরোয়া দুই মহিলা

প্রতিনিধি / সিলেট ::

 

বিগত কয়েক দিন ধরে বেড়েছে হানি ট্যাপের কালো গ্রাস। গোটা সিলেট শহর ও গ্রাম গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে এ সদস্যদের বিচরণ। সুন্দর দেহের আবরণ দেখিয়ে মোবাইলের নাম্বার সংগ্রহ করে নিজের ছবি দেখিয়ে তরুণ যুবক ও মধ্যে বয়সি পুরুষদের আকৃষ্ট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিজের পছন্দ মত জায়গায় নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় গোপনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করা হয়। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে হতে হয় হামলা, ধর্ষণ মামলা সহ নানা হয়রাণীর শিকার।

 

এমন অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ থেকে আগত সিলেট জেলা মহানগর যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাকি আক্তার ওরফে লাকি আহমেদ ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে আগত সিলেট যুব মহিলা লীগের সহ প্রচার সম্পাদীকা খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে। লাকি আওয়ামীলীগ শাসন আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দক্ষিণ সুরমার এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাক মেইল করে থাকে, ওইসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় লাকি মিথ্যা ৫জনের উপর ধর্ষণ মামলা করে থাকে।

 

পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলার একটি সংস্থা তদন্ত করে মিথ্যা প্রমাণ মিলে পরবর্তীতে আদালত তা ওই ধর্ষণ মামলা খারিজ করে দেন। ঠিক তেমনি খাদিজা বেগম নিজে মহানগরীর পূর্ব স্টেডিয়াম মার্কেটের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্বপ্না ফিজিওথেরাপী ও হিজামা সেন্টারের অপকর্ম করার চেষ্ঠা চলালে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্বপ্না বেগম তার অপকর্ম বুঝতে পেরে তাকে চাকুরিচ্যুত করেন, এর পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে স্বপ্না বেগম সিলেট পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগম এক সময় বাউলা গানের পালা নাচ করত, সেখানে রয়েছে তার নানা অপকর্মের কাহিনী। একটি লাইভের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাকি আক্তারের সাথে খাদিজা বেগমের পরিচয় হলে চলতে চলতে খুব সখ্যতা হয় দু’জনের পরবর্তী হয়ে উঠেছেন বান্ধবী হিসেবে,লাকি সুযোগ বুঝে খাদিজাকে আওয়ামীলীগের সক্রিয় একজন কর্মী হিসেবে তৈরি করে, এর পর থেকে পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। বর্তমানে সিলেট নগরীর আতংকের দুই নাম লাকি ও খাদিজা এরা এখন প্রকাশ্যে হানি ট্যাপ করে বেড়াচ্ছে। তাদের অন্যতম সঙ্গী হিসেবে রয়েছে হবিগঞ্জে বাড়ি বাপ্পী নামের এক যুবক। তার সাথে রয়েছে ভূঁইফোড় ফেসবুক কয়েক লাইভার সদস্য। লাকি ও খাদিজা ব্ল্যাক মেইল করে ওইসব ভূঁইফোড় ফেসবুক লাইভারদের খবর দিলে তারা যথাসময় উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ অসহায় মানুষদের জিম্মি করে থাকে।

 

লাকি ও খাদিজার হানি ট্র্যাপ! প্রতারনার শক্ত হাতিয়ার। সেই ফাঁদে পড়ে নি:স্ব হয়েছেন কতজন এর হিসেব অজানা। মানুষের ব্যক্তগত জীবন বলতে আর কিছূ থাকে না। অন্যের হাতে চলে যায় নাটই। যেমনে চায় তেমনে চালায়। জীবন্ত লাশের অপর নাম যেন হানিট্র্যাপের বিভীষিকা। সেই হানিট্রাপের কালো গ্রাস এখন পূন্যভূমি সিলেটেও।

 

এদিকে সিলেট মেট্রােপলিটন পুলিশের কতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ এই চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছে। এদের মধ্যে দুই নারী ও দুই পুরুষ। উদ্ধার করা হয়েছে এক ভিকটিমকেও।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬ইং) ভোর ৪টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের নিকট থেকে ১টি প্রাইভেট কার, ১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ৫টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, সিলেটের কানাইঘাটের আজিজুল হক ওরফে বাবুল মিয়া ও ফায়ারুন নেছার যুবতী কন্যা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ারা বেগমের যুবতী কন্যা জেসমিন আক্তার (২২), মোগলাবাজার উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার তোফাজ্জল আলী ও মালেকা বেগমের পূত্র মো. জায়েদ আহমদ (৩৫) ও গোয়াইনগাটের মোহাম্মদপুর এলাকার আলাল উদ্দিন ও নাসিমা বেগমের পূত্র আব্দুল জলিল (৩০)।

 

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬ইং) এসএমপির কোতোয়ালী মেন্দিবাগ এলাকা থেকে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) ওই চক্রের সদস্যরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩নং বাসার ৫ম তলার একটি কক্ষে নিয়ে জিম্মি করে।
সেখানে তারা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ইলেকট্রিক শক প্রদানের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন চালায়।

 

এ সময় জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। এসব কাজের শুরু থেকেই জেসমিন ও তানহাকে ব্যবহার করে তারা।

 

পরবর্তীতে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেন ৯০ হাজার টাকা। তখন ভিকটিমের পরিবারে লোকজনের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তারা কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ করেন এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমদের উদ্ধার করে। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা (নং-১৯-১১/৪/২৬) দায়ের করে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031