সিলেট ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২৬
প্রতিনিধি / বালাগঞ্জ ::
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের আলাপুর মৌজার অন্তর্ভুক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নশিওরপুর গ্রামের আব্দুল আহাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে হাড় ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি বালাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের প্রতিবেশী ছায়েম আহমদ (২২), আকাশ মিয়া (১৯), হেপি বেগম (৩৮) ও ফজলু মিয়া (৪২) তার ওপর হামলা চালিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বাদীর বসতবাড়ির উঠানে ধান শুকানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী হেপি বেগম বাদীর উঠানে রশি টানিয়ে ভেজা কাপড় শুকাতে দেন। এতে বাদী আপত্তি জানালে প্রথমে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পরে চিৎকার করে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডেকে এনে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। এসময় ছায়েম আহমদ লোহার ভেলচা দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে আঘাতটি হাতে লাগে এবং গুরুতর জখম হন।
এছাড়া আকাশ মিয়া জিআই পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নীলাফুলা জখম করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ফজলু মিয়া ও হেপি বেগমও হামলায় অংশ নেন বলে বাদী দাবি করেছেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে হামলাকারীরা অভিযোগ করলে পরিবারসহ বাড়িছাড়া করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত হেপি বেগম স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। গ্রাম পঞ্চায়েত একাধিকবার আপোষ নিষ্পত্তি করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এমনকি এক পর্যায়ে তাকে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বয়কট করা হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বালাগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে নাসিমা বেগম ও সেবুল মিয়াকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।