ধর্মপাশায় পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার কৃষক দিশেহারা

প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬

ধর্মপাশায় পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার কৃষক দিশেহারা

প্রতিনিধি / সুনামগঞ্জ ::

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে ও উজান থেকে নেমে আশা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন হাওরের নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার কৃষক দিশেহারা। পাকা ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে, আবার কোথাও কোথাও ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে। এতে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধানও ঠিকমতো শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। খলায় রাখা ধান ভিজে গেরা উঠে (চারা গজিয়ে) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা আগাম ধান কেটে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন, তারা এখন নতুন করে বিপাকে পড়েছেন।

 

জানা গেছে,দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের নীচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ছোট ছোট বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাছাড়া শ্রমিক সংকটের জন্য কৃষক দিশেহারা অবস্থায় আছে। এক মন ধানের দাম ৮০০/ টাকা, দৈনিক একজন শ্রমিকের মূল্য ১২০০/ শত টাকা। ধান কেটে উল্টু কৃষকের হাত থেকে টাকা গনতে হয়।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৩১,৯১০ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে ২৫১৮০ হেক্টর। নন হাওরে আবাদ হয়েছে ৬৭৩০ হেক্টর।গত শনিবার পর্যন্ত মাঠে অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে জলাবদ্ধকৃত ১৭৮৩ হেক্টর জমি। দুই উপজেলায় একেবারে নষ্ট হওয়া জমির পরিমাণ ২৭০৩ হেক্টর।

 

টগার হাওরে কৃষক পরশ তালুকদার বলেন, আমার ৩২ কাটা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারিনি। যদি বলারামপুর ও টঙ্গী বাঁধে চুইজগেইট থাকতো তাহলে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হতোনা। পানি নিশকাসনের ব্যবস্থা থাকলে লক্ষ লক্ষ মন ধান পানিতে তলিয়ে যেতনা। মেশিন দিয়ে ধান কাটা যেতো।
শৈলচাপড়া হাওরের কৃষক মির্জা রেজাউল করিম বলেন, আমার ৮ কাটা জমির ধান ১২০০ টাকা করে ১৪ জন শ্রমিক দিয়ে কাটিয়েছি। অতি বৃষ্টির কারনে ও শ্রমিকের অভাবে সেই কাটা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িতে আনতে পারিনি। এখন সামনের দিনগোলো কেমনে যাবে আল্লাহ ভালো জানেন।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে যাহা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। দ্রুত ধান কাটার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি আমরা ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকের লিষ্ট করে আমাদের কৃষি অধিদপ্তরে পাটাচ্ছি আগামী দিনে সহয়তা দেওয়ার জন্য।

 

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনি রায় বলেন, আমি বিভিন্ন হাওরে খলায় খলায় ঘুরে কৃষকদের সমস্যা ও তাদের আহাজারি শুনেছি। অনেক কৃষক কাটা ধান নিয়ে রোদের অপেক্ষায় দিনের পর দিন বসে আছে, অনেকের ধানে আবার চারা গজাচ্ছে। এ সমস্ত বিষয় দেখে আমার খুবই খারাপ লেগেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দিয়েছেন তিন মাস সরকারি সহযোগিতায় দিবেন, সেই অনুযায়ী কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Spread the love

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031