এম. ইলিয়াস আলী, সামসুজ্জামান জামানসহ ৩৮ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি, বালাগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬

এম. ইলিয়াস আলী, সামসুজ্জামান জামানসহ ৩৮ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি, বালাগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ

এম এ কাদির, বালাগঞ্জঃঃ

স্বৈরাচার সরকারের সময় বহুল আলোচিত সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বিরোধী দলকে দমন করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃত্ব শূণ্য করতে নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে দায়ের করা মামলায় অবশেষে আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, মহানগর ছাত্রদল নেতা রুবেল আমিন সুমন, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা তুফায়েল আহমদ সুহেলসহ মোট ৩৮ জন অভিযুক্ত।

 

মামলা থেকে নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মী খালাসের খবরে বালাগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসা বাজারসহ বালাগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকে এ রায়কে সত্য ও ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

এ ব্যাপার তৎকালীন সিলেট নগরীর ২২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক রুবেল আমিন সুমন মুঠোফোনে জানান, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপিকে দমন করতে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এ রকম আরো ৩ টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানাজারী থাকায় পালিয়ে আছেন। তিনির মত আরো অনেক বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবৈধ শেখহাসিনা সরকারের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন গ্রেফতার এড়াতে পরিবার পরিজন থেকে অনেক দূরে থাকতে হচ্ছে। আদালতের ন্যায়বিচারে আজ বহুল আলোচিত একটি মামলা থেকে আমি সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মুক্তি পেয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা প্রতিহিংসা মূলক সকল মামলা থেকে নির্দোষ মানুষকে অব্যাহতি প্রদান করা হবে।

 

মিষ্টি বিতরণকালে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ সুহেল বলেন, “এই খালাস প্রমাণ করে মামলা ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, আজ সেই আনন্দেই মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।”এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এই মামলার স্বাক্ষী-প্রমাণ জেরা শেষে আসামীরা নির্দোষ প্রমাণিত হলে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেট’র (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এই মামলা থেকে আসামীদেরকে খালাসির রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ প্রমুখ।

 

মামলার বিবরণীর সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় সিলেট হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব-০২০১৩৩) যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো এবং একই সঙ্গে আরেকটি যাত্রীবাহী বাস (সিলেট-জ-১১-০৩৪৪) ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হন চিত্র নায়িকা শাবনূরের পিতা কাজী নাছির (৭০)। যার পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল বেওয়ারিসভাবে লাশ দাফনের ১৩দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক নারী দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা। জোৎস্না বেগম নামে ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের নাম কাজী নাছির (৭০)। বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়।

 

দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে নাছিরের পরিচয় সনাক্ত করেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল বদিকোনা এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসের মধ্যেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। দুইদিন পর ২০ ডিসেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ওই ব্যক্তির লাশ নগরীর মানিকপীরের গোরস্থানে দাফন করে পুলিশ।

 

তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত সাংবাদিকদের জানান, সকালে নিহতের স্ত্রী জোৎস্না থানায় এসে লাশটি তার স্বামীর বলে জানান। পায়ের জুতা ও মুখমণ্ডলের ছবি, হাতের ঘড়ি ও কোমরের বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় সনাক্ত করেন তিনি। গাড়িতে আগুনের ঘটনায় ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটো মামলা হয়। এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদি হয়ে হত্যা মামলা (৭৮৮/২০১৬) এবং পরিবহন ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করেন। মামলায় ১৪৩, ৩৪১, ৪৩৫, ৪২৭, ৩০২, ৩৪ দন্ডবিধির ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়।

 

মামলায় আসামি করা হয় বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বিএনপি নেতা এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, কোহিনুর (৩৮), আশিক (৩৫), মকছুদ আহমদ (৩৩), রাসেল (২৮), তোরন (৩০), সামছুল ইসলাম টিটু (৩১),এমএ মান্নান, অলিউর রহমান, কামাল হোসেন, রুবেল আমিন সুমন (কাউয়া সুমন), তোফায়েল আহমদ সুহেল, শরিফ আহমদ, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল বাছিত, সুহেল, মো. কামরুজ্জামান, আজমল বখত সাদেক, শাকিল মোর্শেদ, শাহাব উদ্দিন, মো. শাহজাহান, শামীম (২৯), তাজুল ইসলাম (৩৯), আলী মিয়া (২৫), হোসেন আহমদ (২৬), ছালেক আহমদ (২৯) জোবায়ের আহমদ (২৮), ফখরুল ইসলাম ফারুক ওরফে টাকু ফারুক (৫৫), লুৎফুর রহমান (৩৮), মো. জাহেদ হোসেন (২৮), জালাল আহমদ (৪০), মুসা মিয়া (৩০), জিহাদ চৌধুরী (১৮), মো. আব্দুল মজিদ (৪২), মজম্মিল আলী (৩০), আঙ্গুর মিয়া (২৫) ও সুহেদুর রহমানকে (৩২)।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031